মহেশখালীতে দুই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, ৪ পাইলট উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজারের মহেশখালীতে বিমানবাহিনীর দুটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত হওয়ার পর এতে আগুন ধরে যায়। দুই বিমানে থাকা চারজনকেই উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পুটিবিলা ও ছোট মহেখালী এলাকায় বিমান দুটি বিধ্বস্ত হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম শাম্মী সমকালকে বলেন, মহেশখালীতে বুধবার সন্ধ্যায় বিমানবাহিনীর দুটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমান দুটি কিছুক্ষণ রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এর একটির মডেল ইয়াক-৮। দুটি বিমানে দুজন করে থাকা চারজনকেই উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার থেকে হেলিকপ্টারে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার আগে বিমানবাহিনী কক্সবাজার স্টেশনের অধিনায়ক এম ইউছুপ আলী জানিয়েছেন, চার পাইলটের সাথে তার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। তারা প্যারাসুট নিয়ে বিমান থেকে নেমে আসতে পেরেছেন। তবে তারা সামান্য আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া গেছে।

প্রশিক্ষণ বিমান দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল কি-না অথবা কী কারণে দুটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেননি বিমানবাহিনীর কক্সবাজার স্টেশনের অধিনায়ক এম ইউছুপ আলী ।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একটি বিমান পুটিবিলা এলাকার জনৈক আব্দুস সাত্তারের বাড়ির চালা উড়িয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ধান ক্ষেতে বিধ্বস্ত হয়। ওই সময় আঁখি (১৫) নামে এক কিশোরী আহত হয়েছে। বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।’

তিনি আরও জানান, একই সময়ে ছোট মহেখালীর লম্বাঘোনা পাহাড়ি এলাকায় আরও একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই এলাকায় কোন ঘরবাড়ি নেই। বিমানটির কিছু অংশ মাটির নিচে ঢুকে গেছে।

প্রশিক্ষণ বিমান দুটি সম্ভবত চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছে বলে জানান ইউএনও।

ঘটনাস্থল থেকে সাহাব উদ্দিন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগে এর একটি অংশ ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে লম্বাঘোনা বাজারের কাছে খসে পড়ে।