পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি সভা

ঈশ্বরদী সংবাদদাতা: পরিকল্পিত পরিবার গড়ি মাতৃমৃত্যু রোধ করি এই শ্লোগানকে সামনে নিয়ে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা মিলনায়তনে আজ বৃহস্প্রতিবার দুপুরে এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য কার্যক্রমের ব্যাপক প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতেই এ্যাডভোকেসি সভার আয়োজন করা হয়। এ্যাডভোকেসি সভায় ডাক্তার, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও কমিউনিটি গ্রæপের সদস্যদরা উপস্থিত ছিলেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারের সভাপতিত্বে এ্যাডভোকেসি সভায় বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাস, ঈশ্বরদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বিশ্বাস, ডাক্তার আবদুল বাতেন, ডাক্তার শফিকুল ইসলাম শামীম, ডাক্তার উর্মী সাহা, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটি ঈশ্বরদী জেলা শাখার সভাপতি তৌহিদ আক্তার পান্না ও ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আবদুল বাতেন।

অনুষ্ঠান আয়োজনে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিলারা খাতুন।

বক্তারা বলেন, জনসংখ্যার লাগামহীন ঘোড়ার গতি রোধ করতে না পারলে জনসংখ্যা বেড়েই যাবে। এদেশে পুষ্টির মান বেড়েছে, মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। জনসংখ্যা হ্রাস কল্পে স্থায়ি পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। অস্থায়ি পদ্ধতি ব্যবহার করার কারণে ২০ শতাংশ ব্যাহত হচ্ছে। জনসংখ্যা হ্রাসে বাল্য বিবাহ রোধ করতে হবে, বিয়ের বয়স বৃদ্ধি করতে হবে।

প্রতি বছর অপরিকল্পিত গর্ভধারণ হয় ২০ শতাংশের বেশি। অপরিকল্পিত গর্ভধারণ হলে পরিবারের মুরব্বীরা বাচ্চা নষ্ট হতে দেয়না। তখন মেয়েরা গোপনে ডাক্তার, প্যারামেডিকস, কবিরাজের স্মরনাপন্ন হয়। সঠিক পদ্ধতিতে গর্ভপাত করানো হলে সমস্যা নেই। কিন্তু সঠিক পদ্ধতিতে গর্ভপাত করানো না হলে তলপেটে ব্যাথা, জরায়ু ক্যান্সার থেকে শুরু করে নানা রকমের অসুখ এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বক্তারা আরও বলেন, কিশোরী মাতা হওয়ার কারণে সুস্থ সন্তান পাওয়া যায়না এবং সন্তানের মৃত্যু ঘটে থাকে। দুটি সন্তানের বেশি নয় একটি হলে ভালো হয়। গর্ভকালনির পরিচর্যা গভপিরবর্তি পরিচর্যা ও সন্তান প্রসবের পর মাকে পরিচর্যা করতে হবে তাহলে শিশু মৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার অনেকাংশে কমে যাবে।

শিশুকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে তাহলে শিশুর রোগবালা কমে যাবে একই সাথে শিশু মৃত্যুহার কমে যাবে। মায়ের দুধের বিকল্প নেই, কমপক্ষে ৬ মাস পর্যন্ত প্রতিটি শিশুকে মায়ের দুধ পান করাতে হবে। সন্তান বেশি হলে শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য কার্যক্রমের লক্ষমাত্রা অর্জনে সকলকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসতে হবে। গর্ভবর্তী মায়েদের হাসপাতাল মুখি করতে হবে। বর্তমানে স্থায়ি পদ্ধতির হার অনেকাংশে কমে গেছে। স্থায়ি পদ্ধতির হার বাড়াতে হবে। তাহলেই জনসংখ্যা হ্রাস করা সম্ভব।

প্রিন্স, ঢাকা