স্পেনে আওয়ামীলীগের মহান বিজয় দিবস পালন

নিজস্ব প্রতিনিধি: যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে নব গঠিত স্পেন আওয়ামী লীগ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের একটি হোটেলের হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্পেন আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত সভাপতি আক্তার হোসেন আতা ।

স্পেন আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক রিজভী আলম ও যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ফয়সাল ইসলাম এর যৌথ চঞ্চালণায় আয়োজিত সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন স্পেন আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্ৰযুক্তি সম্পদক এফ এম ফারুক পাবেল।

বক্তব্য দেন স্পেন আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত সহ সভাপতি ও ব্যাবসায়ী বোরহান উদ্দিন, শামীম আহমেদ ,স্পেন যুবলীগ সভাপতি সেলিম রেজা সৌরভ, যুগ্ম সম্পাদক সবুজ আলম, মোঃ হাসান, আক্তারুজ্জান আক্তার, দপ্তর সম্পাদক তাপস দেব নাথ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার আলম, এনাম আলী খান, কাদের খান, সেলিম সরকার এডভোকেট তারেক হোসাইন, সাইফুল আলম সোহাগ, জানে আলম ও সেলিম আহমদ প্রমুখ।

সভায় টেলি কনফারেন্স এর মাধ্যমে বক্তব্য দেন সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিদ্যুৎ বড়ূয়া ও নেদারল্যান্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহাদত হোসাইন তপন।

ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিদ্যুত বড়ূয়া বলেন, কোন বিবেদ না করে নৌকার কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের জন্য কাজ করে আগামী নির্বাচনে আবারো জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে।আওয়ামী লীগ অন্তত আরো একবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলেই যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হয়েছিলো, দেশ সত্যিকারের সে সোনার বাংলাদেশে রূপান্তরিত হবে।

স্পেন আওয়ামীলীগ সভাপতি আক্তার হোসাইন আতা বলেন, স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন ও লালিত স্বপ্ন স্বাধীনতা। দীর্ঘ ২৩ বছর রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতার চূড়ান্ত বিজয়। বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্থপতি এবং স্বপ্নস্রষ্টা।

স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ ২৩ বছর অনবরত শত নির্যাতন, জেল জুলুম অসংখ্যবার কারাবরণ করেছেন। তিনি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনেন। তাই বঙ্গ বন্ধু ও তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে সভার সূচনা করা হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সকল শহীদ, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত শহীদ হওয়া সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙ্গালীর মুক্তির সংগ্রাম কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় লাভ করেছে তার বিভিন্ন দিক আলোচিত হয়। বঙ্গবন্ধু কী পরিস্থিতিতে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, তা আলোকপাত করা হয়। ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের কথা স্বীকার করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

সভায় পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে কিভাবে দেশকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল- এসব নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ কিভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সব শেষে আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানানো হয়।