চা খেয়ে সম্মাননা পেলেন ৩০জন গ্রাহক

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্ততিনিধি ঃ
এক সময় বিনা পয়সায় চা খাওয়াতো বৃটিশরা। কারণ দিনে দিনে বাঙালীরা টাকা দিয়ে চা কিনে খাবে। আর চা খেয়ে সম্মাননা পেয়েছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ৩০জন গ্রাহক।
শনিবার (২২ডিসেম্বর) শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল। রঙ্গিন সাঁজে সজ্জিত চারপাশ। বিভিন্ন পেশার মানুষ সমবেত হয়েছে গৌরীপুর ‘হারুণ টি হাউজে’। গল্প, খাওয়া-দাওয়া, হাসি-আনন্দ। এ যেনো এক মিলনোৎসব। এমন বর্নাঢ্য ও সৌহার্দপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো সেরা চা গ্রাহক সম্মাননা পুরুস্কার। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা হলেন হারুন টি হাউজের মালিক হারুন অর রশীদ। তিন বছর আগে মাত্র পাঁচশ টাকা পুঁজি নিয়ে গৌরীপুর শহরের সোনালী ব্যাংকের সামনে চায়ের দোকান শুরু করেছিলেন হারুন। প্রথম দিকে প্রতিদিন পাঁচশ টাকা মতো চা বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে দাড়িয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যেসব গ্রাহক হারুনের দোকানে নিয়মিত চা খেতে আসেন। তাঁদের মধ্য থেকে ৩০ জন গ্রাহককে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গৌরীপুর শাখার সভাপতি আইনজীবি আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে গ্রাহকদের হাতে সম্মাননার পুরুস্কার তুলে দেন। পুরুস্কার পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে গ্রাহক শ্যামল ঘোষ বলেন, গৌরীপুর শহরে দুই শতাধিক চায়ের দোকান থাকলেও, হারুন টি হাউজ প্রথম গ্রাহকদের সম্মাননা দিলেন। আমার মনে হয়ে চা গ্রাহকদের সম্মাণিত করতে দেশে এটাই মনে হয় প্রথম উদ্যোগ। আমি হারুন টি হাউজের ব্যবসায়িক সফলতা কামনা করছি।
আরেক গ্রাহক সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, হারুন টি হাউজের সেবায় আমি মুগ্ধ। কারণ হারুণের মুঠোফোনে কল কিংবা ম্যাসেজ করলেই আমাদের বাসায় চা পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও দোকান যদি কোনো দিন বন্ধ থাকে অথবা খুলতে দেরি হয়, তাহলে সেটা গ্রাহকদের মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে আগের দিন জানিয়ে দেওয়া হয়। এই ধরণের আন্তরিক গ্রাহক সেবা গৌরীপুরের আর কোনো চায়ের দোকানে পাওয়া যায়না।
হারুন টি হাউজের মালিক হারুন অর রশিদ বলেন, প্রতিদিন প্রায় তিনশ গ্রাহক আমার দোকানে চা খায়। তাই গ্রাহকদের সাথে দৃঢ় সেতুবন্ধন করতেই আমি গ্রাহক সম্মাননা পুরুস্কার চালু করেছি। সম্মাননা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকের লেনদন, আন্তরিকতা ও আচার-ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতি বছর এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।