বিমা মেলা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমা মেলা উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “বিমাশিল্পের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে সিলেটে ‘বিমা মেলা-২০১৭’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

জনগণের জীবন এবং সম্পদের ব্যবস্থাপনায় আর্থিক সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে বিমার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার বিমাশিল্পের গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১০ সালে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন প্রণয়ন করে এবং ২০১১ সালে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে। বিমা আইন ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা ‘জাতীয় বিমা নীতি ২০১৪’ প্রণয়ন করেছি। সরকারের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল: বাংলাদেশ ২০১৫ এ মানুষের নিরাপত্তা, বার্ধক্যকালীন ঝুঁকি, অক্ষমতা, সামাজিক অবহেলা, বেকারত্ব এবং মাতৃত্বকালীন ঝুঁকির ক্ষেত্রে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে একটি সামাজিক বিমাব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

আমাদের অর্থনীতিতে বিমার অবদান বৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনী ও গবেষণামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিমাশিল্পে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অতিসহজে বিমা গ্রাহক বিমাপলিসি গ্রহণ করার পাশাপাশি বিমাকারী দ্রুততা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে দাবি নিষ্পত্তি করতে পারে। আমরা এশিল্পে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছি।

সামাজিকবিমা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এর আওতা ও পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সরকার এটিকে সার্বজনীন পেনশন কর্মসূচি হিসেবে রূপায়ন করবে। ২০২১ সালে সারাদেশে এই স্কিম চালু করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা কৃষিবিমা, স্বাস্থ্যবিমা, শিক্ষাবিমা এবং প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমা পরিকল্পনা প্রণয়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

আমি আশা করি, আগামী ১৫ বছরে ১শ’ টি ইপিজেড ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করে বিমাশিল্পের চাহিদা বৃদ্ধি করতে আমরা সক্ষম হব।

বিমাখাতে কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের বাস্তবায়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং পুঁজিবাজারে বিমাখাতের অবদান বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি ‘বিমা মেলা- ২০১৭’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”