বাসের দাবিতে রাবির প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও

রাবি প্রতিনিধি: সহপাঠির জানাযায় অংশ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে পরিবহন সুবিধা চান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বন্ধুকে শেষ বারের মত দেখার জন্য বাসের দাবিতে সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা সহপাঠিরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বাসের দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে। অবশেষে নিরূপায় হয়ে সানির সহপাঠিরা নিজেরাই বাস ভাড়া করে তার বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানিউর রহমান গত এক সপ্তাহ ধরে দুরারোগ্য ব্যাধি ‘হেপাটাইটিস বি’-তে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি হাসপাতালে মারা যান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। তিনি নেত্রকোনার আটপাড়া থানার দেওশ্রী গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে। গত ৪ অক্টোবর ফজলুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। আজ সন্ধ্যা ৬ টায় সানির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, সানির গ্রামের বাড়িতে তার জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ার জন্য সহপাঠি ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে বাসের আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের এ আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে শিক্ষার্থীরা বাসের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। বাস না দেওয়ায় দুপুর দেড়টার দিকে প্রথমে তারা বাস চলাচল বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে দুপুর পৌনে দুইটার টিপের কোন বাস চলে নি। পরে দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা, প্রক্টর লুৎফর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা জান্নাতুল ফেরদৌসসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করতে বলেন।

এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘তোমাদের দাবি অযৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাস দেওয়া সম্ভব নয়। এভাবে বাস দেওয়ার নজির নেই।’

উপাচার্যের কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের গেট আটকে দিয়ে সানির সহপাঠি ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল ও শ্লোগান দিতে থাকে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বন্ধুকে শেষ বারের মতো বন্ধুকে দেখবো বলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বাস চেয়েছি। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনায় বাস দেয়া হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিয়েতে বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সানির মারা যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসন বাস না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

টানা তিন ঘণ্টা আন্দোলনের পর বিকাল সাড়ে ৪টায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। উপ-উপাচার্য বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের বুঝতে একটু সমস্যা হয়েছিল। তবে সানির বাড়ি অনেক দুরে, তাই এখন বাস দিলেও শিক্ষার্থীদের জানাজায় অংশ নিতে পারবে না। তাই পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা সানির বাসায় যেতে চাইলে বাসের ব্যবস্থা করা হবে।’

শিক্ষার্থীরা তারপরেও বাসের দাবি অব্যাহত রাখলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সানির বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হবে জানালে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী মারা গেলে তার জানাযায় অংশ নিতে এর আগে বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার বাস না দেওয়ায় আমরা প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। প্রশাসন আমাদের বাস দেয়নি। তাই আমরা নিজেরাই বাসের ব্যবস্থা করেছি।’

জানতে চাইলে রাবি প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘অনেক দূরে হওয়ায় আমরা বাস দিতে রাজি হইনি।’

প্রিন্স, ঢাকা