সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখে দাঁড়ানোর শপথ

নিউজ ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর দৃঢ় শপথের মধ্য দিয়ে শনিবার রাজধানীতে বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রা করেছে আওয়ামী লীগ। বিজয়ের ৪৬তম বর্ষপূর্তিতে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে থেকে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় লাখো মানুষের কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও উচ্চারিত হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ ও বিচারের রায় কার্যকর এবং একাত্তরের ঘাতকদের শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবিটিও জোরেশোরে উঠে এসেছে।

আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত এ বিজয় শোভাযাত্রা উপলক্ষে দুপুরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নেতাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘শিখা চিরন্তন’-এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিকেলে বিশাল শোভাযাত্রা বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে শোভাযাত্রায় যোগ দিতে দুপুরের আগে থেকেই রাজধানীর সব থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক অসংখ্য ছোট-বড় মিছিল সহকারে নিজ নিজ ব্যানার নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন।

এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক স্বতঃস্ম্ফূর্ত সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধারাও উপস্থিত হন সেখানে। আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও এই শোভাযাত্রা ঘিরে শোডাউন করেছেন। এতে শোভাযাত্রায় আগাম নির্বাচনী আমেজও ছড়িয়ে পড়েছিল। এক পর্যায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, মৎস্য ভবন ও শাহবাগ এলাকা জনারণ্যে পরিণত হয়।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনের সমাবেশে বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি ‘জয়বাংলা’কে যারা অস্বীকার করে, ধারণ করে না এবং উচ্চারণ করে না- তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। আজ জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে আবারও আমরা ঐক্যবদ্ধ হবো। এ সময় নৌকার পক্ষেও স্লোগান দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, সারাদেশে সরকারের পক্ষে গণজাগরণ ও গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ দুই মেয়াদে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। তাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলতে চাই।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সমাবেশে দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম, ফরিদুন্নাহার লাইলী, অসীম কুমার উকিল, আবদুস সোবহান গোলাপ, দেলোয়ার হোসেন, আবদুস সবুর, সাদেক খান, শাহে আলম মুরাদ, অপু উকিল, সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে বিশাল ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘যুদ্ধাপরাধী রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখর মানুষ হেঁটে এবং বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে শোভাযাত্রায় যোগ দিয়েছেন। প্রায় সবার হাতেই ছিল ছোট ছোট জাতীয় পতাকা, বেলুন, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন। অনেকের হাতে ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতি। এ সময় মাইকে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণসহ স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের উদ্দীপনামূলক ও দেশাত্মবোধক গান প্রচার করা হয়।

শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, কলাবাগান ও রাসেল স্কয়ার হয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এই শোভাযাত্রা ঘিরে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মৎস্য ভবন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, কাকরাইল, শাহবাগ, মিরপুর রোডসহ নগরজুড়ে তীব্র যানজট দেখা গেছে।