আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়: শিল্পমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলেই দেশে শিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারী রেজিস্টার্ড ও কমিউনিটি মিলিয়ে ২৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী করেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও স্বাধীনতার পর ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নীতির আলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন সরকার দেশে এ ধরনের কোন উদ্যোগ নেয়নি।

শিল্পমন্ত্রী আজ দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বিসিআইসি মিলনায়তনে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মুসলিম এইড-ইউকে বাংলাদেশের ফিল্ড অফিসের উদ্যোগে ও এডুকেশনাল, চ্যারিটেবল এন্ড হিউম্যানিটেরিয়ান অর্গানাইজেশান (ইসিএইচও)-এর সহযোগিতায় ঢাকা অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে এই বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মুসলিম এইড-ইউকে বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ও সভায় সভাপতিত্ব করেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তাসলিমা সুলতানা মিতু প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এসময় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ড্রাট্রিজ-এর চেয়ারম্যান শাহ মো. আমিনুল হকসহ মুসলিম এইড-ইউকে বাংলাদেশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকা অঞ্চলের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ১০৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ৭ লাখ টাকার বৃত্তির চেক হস্তান্তর করা হয়।

আমির হোসেন আমু বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তাদের জন্য বিভিন্ন ভাতা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আবারও ক্ষমতায় এসে এসব ভাতা ও সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ হচ্ছে এ লক্ষ্য অর্জনের কার্যকর হাতিয়ার উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এটি বিবেচনায় এনে বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। আমরা আজকের শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল’ হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। শিশুদের উপযুক্ত শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটিয়ে তাদেরকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।

আমির হোসেন আমু বলেন, গুণগত শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে আমাদের সরকারের গত মেয়াদে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি প্রদান, বিনামূল্যে বই বিতরণ, মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

আমির হোসেন আমু বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। এখন বাংলাদেশে এর পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্পোন্নত জার্মানিতে শতকরা ৬৬ ভাগ, সিঙ্গাপুরে শতকরা ৬৫ ভাগ শিক্ষার্থী টেকনিক্যাল এডুকেশন লাভ করছে।

ফলে তাদের শিক্ষার্থীরা একদিনের জন্যও বেকার থাকে না। অথচ বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত তরুণ চাকুরির বাজারে আসছে। কিন্তু আমাদের দেশে ম্যানেজারিয়াল জব এর পরিমাণ খুবই সীমিত। অন্যদিকে টেকনিক্যাল পদে বিস্তর কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও দক্ষ ও উপযুক্ত ডিগ্রিধারী প্রার্থীর তীব্র সংকট দেখা যাচ্ছে। কেবলমাত্র কারিগরি জ্ঞানে প্রাজ্ঞ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনসম্পদ তৈরির মাধ্যমে এ ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব।