পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাছে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা

ঈশ্বরদী সংবাদদাতা: বহু প্রতিক্ষীত ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথের ঈশ্বরদী থেকে পাবনা অভিমুখী নবনির্মিত রেলপথ দিয়ে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় এই ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে নবনির্মিত মাঝগ্রাম জংসন স্টেশন হয়ে পাবনা যায়।

ট্রেনটি আবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পাবনা থেকে ছেড়ে আসে। ট্রেনে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় ট্রায়াল ট্রেনের ইঞ্জিনটি রঙিন সাজে সজ্জিত করা হয়। মাঝগ্রাম, দাশুড়িয়া, টেবুনিয়া ও পাবনা স্টেশনে পৌঁছালে প্রচুর মানুষ ট্রেনটি দেখার জন্য ভিড় করে।

রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা শওকত জামিল মহসি জানান, ট্রেনটি ৩০ সদস্যের একটি টিম নিয়ে পরীক্ষামূলক চলাচল করেছে। এ মাসের শেষে রাজশাহী থেকে পাবনা পর্যন্ত একটি কমিউটার ট্রেন চলাচল শুরু করবে। ট্রেনটি পাকনা ষ্টেশনে পৌছালে জেলা প্রশাসক রেখা রাণী বালো ও পাবনা সদরউপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সুবক্তগীন জানান, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ঢালারচর পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কম খরচে পাবনাবাসি যাতায়াত করতে পারবেন। এতে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে মানুষের চলাচল সহজ হবে।

বিভাগীয় পাকশী রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) অসিম কুমার তালুকদার জানান, পাবনা জেলার ১১টি থানার মধ্যে ৩টি থানার অল্প সংখ্যক মানুষ রেলপথ সুবিধা পেলেও জেলার মোট জনসংখ্যার বিরাট একটি অংশ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল।

এই রেলপথ নির্মাণের দাবি ছিল পাবনাবাসির দির্ঘদিনের। সেই অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে। এখন রোমাঞ্চকর ট্রেন ভ্রমনের জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শহরবাসি।

বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা যায়, পাবনার মানুষের ১০০ বছরের দাবি ছিল এই রেলপথ। ১৯১৪ সালে পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করা হলে সেই সময়ে দাবি উঠে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা পর্যন্ত একটি লিংক রোড রেল লাইনের। সেই সময় ব্রিটিশরা এই দাবি পূরণে প্রতিশ্রুতিও দেয়। তবে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন হয়নি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে তাৎকালিন আওয়ামীলীগ সরকার পাবনাবাসির দীর্ঘ দিনের এ দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথ প্রকল্প কাজ শুরু করে। সে সময় পাবনায় নদী কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠলে স্থলপথে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে নগরবাড়ি পর্যন্ত রেলপথের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে পাবনা শহরের টাউন হল মুক্তমঞ্চ মাঠে এক ভিডিও কনফারেন্সে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেন আগামিতে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে এই রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে আওয়ামীলীগ সরকার পাবনাবাসির প্রাণের দাবি এ রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময় নকশার কিছুটা পরিবর্তন এনে রেলপথটি ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সে অনুযায়ী ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নিবার্হী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২৯ কোটি টাকা।

২০১৩ সালে ২ ফেব্রুয়ারি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করেন। পাবনাবাসির দির্ঘ দিনের এই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়ন হতে চলছে।

প্রিন্স, ঢাকা