নারীর প্রতি নির্যাতন বৈষম্য নিরসনে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একত্রে কাজ করার আহ্বান

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: জাত-পাত ও পেশাগত পরিচয়ের কারণে বাংলাদেশে প্রায় ৬৫ লক্ষ দলিত জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হয় যার অর্ধাংশই নারী। বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের গৃহিত বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নারীর মানবাধিকার উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অবদান যেমন আমাদের গর্বিত করে তার বিপরীতে সমাজের দলিত নারীদের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি আমাদের সমানভাবে ব্যথিত করে। দলিত নারীর পিছিয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে তাদের প্রতি বৈষম্য।

সমাজে দলিত নারীরা সাধারণত দুইভাবে বৈষম্যের শিকার হয়। প্রথমত দলিত এবং নারী হিসেবে বৃৎত্তর সমাজে এবং দ্বিতীয়ত নারী হিসেবে নিজ জনগোষ্ঠীতে। পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতা, বঞ্চনা ও বৈষম্যকে পেছনে ফেলে তাদের জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন। ফলে বৃহৎ সমাজের নারীরা যেখানে ক্রমশ সামনের দিকে এগিয়ে যায় সেখানে দলিত নারীরা তাদের তুলনায় অনেক পেছনে পড়ে থাকে।

বাংলাদেশের দলিত নারীর পিছিয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধান এবং তাদের সহিংসতা বন্ধের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে আনতে করণীয় বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে আজ ৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ (শনিবার) সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় কনফারেন্স লাউঞ্জ, জাতীয় প্রেস ক্লাব এ নাগরিক উদ্যোগ এর সহায়তায় এবং বাংলাদেশ দলিত নারী ফেডারেশন, দলিত নারী ফোরাম এবং বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) এর আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবেয়া রওশন, নৃ-বিজ্ঞানী ও গবেষক; জোবাইদা নাসরীন, সহযোগি অধ্যাপক, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; বনানী বিশ্বাস, সদস্য, বাংলাদেশ দলিত নারী ফেডারেশন।

আলোচনা সভায় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন রুহিন হোসেন প্রিন্স, সম্মানিত সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি; জাকির হোসেন, প্রধান নির্বাহী, নাগরিক উদ্যোগ; সুনিল কুমার মৃধা, সভাপতি, বিডিইআরএম; বিভূতোষ রায়, সাধারণ সম্পাদক, বিডিইআরএম; ভিম্পাল্লী ডেভিড রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক, বিডিইআরএম; মাহাবুল হক মাহাবুব, বাংলাদেশ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস্ এন্ড ডেভেলপমেন্ট; স্বদীপ কুমার রায়, সদস্য বিডিইআরএম; জিয়াউদ্দিন, সদস্য, উর্দূভাষী সম্প্রদায়; ইউ কে নন্দন (জয়), সদস্য তেলুগু সম্প্রদায় এবং বেবী রাণী, সদস্য, দলিত নারী ফোরাম।

সভায় প্রাথমিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন তামান্না সিং বাড়াইক, কর্মসূচি সহযোগি, দলিত নারী ফোরাম। প্রাথমিক বক্তব্যে বাংলাদেশে দলিত নারীদের প্রতি বৈষম্যের কারণসমূহ তুলে ধরে তার প্রতিকারে সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মনি রাণী দাস, সভাপতি, বাংলাদেশ দলিত নারী ফেডারেশন।

দলিত নারীর প্রতি নির্যাতন ও বৈষম্য নিরসনে আলোচকগণ নারীর উচ্চশিক্ষা এবং নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির উপর গুরত্ব আরোপ করেন।

তারা বলেন, বর্তমান সরকার নারী-বান্ধব সরকার এবং নারীদের শিক্ষার প্রতি বর্তমানে অনেক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এখন যা প্রয়োজন তা হলো পরিবার পর্যায়ে শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা। এক্ষেত্রে দলিত কিশোরীদের বাবা-মায়েদের সচেতন করার মাধ্যমে শিক্ষায় দলিত নারীদের অভিগম্যতা বাড়াতে হবে।

এক্ষেত্রে সরকারের পাশপাশি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান দলিত জনগোষ্ঠীকে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। সুতরাং দলিত জনগোষ্ঠীর প্রতি শিক্ষা ক্ষেত্রে বাধাসমূহ দূর করতে হবে।

বক্তারা বলেন, দলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাল্য বিবাহের হার অনেক বেশি। সুতরাং দলিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষার পথ সুগম করতে হলে সর্বপ্রথম বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা দরকার। এছাড়া নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সাথে তাদের পরিবারে এবং সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের তাদের স্বাধীনতা উপভোগের বিষয়টি জড়িত। সুতরাং শিক্ষার পাশপাশি দলিত নারীদের জন্য কর্মমূখী দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে সরকারকে আরো মনোযোগি হবার জন্য আলোচনা সভায় আহ্বান জানানো হয়।