আগামী বছর উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করবে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক: আগামী বছরের শুরুতে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ আগামী মার্চে এ বিষয়ক অগ্রগতির ঘোষণা দেবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান। জাতিসংঘের এ ঘোষণার পরে দেশের উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে সরকার পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আবদুল মান্নান এ কথা জানান। এ সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম উপস্থিত ছিলেন। গত ২০ ও ২১ নভেম্বর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা সম্মেলনে যোগ দেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। এর পর সরকারি সফরে তুরস্ক এবং ব্যক্তিগত সফরে লন্ডন যান। সফর শেষে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও সংস্থার মূল্যায়ন তুলে ধরতে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন।

বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকাভুক্ত। জাতিসংঘের হিসাবে এলডিসিভূক্ত দেশের সংখ্যা ৪৭। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে জাতিসংঘ তিনটি সূচক বিবেচনা করে থাকে। সূচকগুলো হচ্ছে- মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদের অবস্থান ও অর্থনীতির ঝুঁকিগ্রস্ততা। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে জাতিসংঘের বিবেচিত সূচকগুলোতে আগামী তিন বছর বর্তমান অবস্থা ধরে রাখতে হবে। পরের তিন বছর একই অবস্থা বিরাজমান থাকলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে।

আবদুল মান্নান জানান, আমাদের দেশ ইতিমধ্যে অর্থনীতির ঝুঁকিগ্রস্ততা সূচকে নির্ধারিত মাপকাঠি অর্জন করেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়নেও অনেক এগিয়েছে। এসব বিবেচনায় আগামী বছর মার্চে জাতিসংঘ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করেছে বলে ঘোষণা দেবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইআরডি সচিব বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হলে কিছু সুযোগ-সুবিধা কমবে। আবার কিছু সুবিধাও হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে: অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বিশ্বের কয়েকটি দেশ ঘুরে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, রোহিঙ্গা বর্তমানে এক নম্বর ইস্যু। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অত্যন্ত ইতিবাচক অবস্থানে আছে। দরিদ্র দেশ হলেও এ দেশের সরকারের অনেক বড় মন আছে- তা বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকাকে সবাই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তুর্কি সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তুরস্কের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সময় যাচ্ছে। সেখানে ওষুধ রফতানির সুযোগ আছে। আবার তুরস্ক থেকে কম খরচে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ আছে।