রুশ যোগাযোগ’ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়ার কথা স্বীকার ফ্লিনের

নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে এফবিআইকে মিথ্যা তথ্য দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন।

শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে স্পেশাল কাউন্সিলর রবার্ট মুলারের তদন্তে ফ্লিনের এই স্বীকারোক্তি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এছাড়া এর মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের আরো ঘনিষ্ঠজনের জড়িত থাকার তথ্যও বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন যখন ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল কোর্টে উপস্থিত হন সে সময় আদালতের বাইরে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কিছু প্রতিবাদকারী।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লিন দোষ স্বীকার করতে চান কি-না আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সম্মত হন। আদালতের কাছে তিনি জ্ঞাতসারে এফবিআইয়ের কাছে মিথ্যা, কাল্পনিক ও প্রতারণামূলক বিবৃতি দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

অবশ্য আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কোনো কথাই বলেননি ফ্লিন।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্ত করছেন স্পেশাল কাউন্সিলর রবার্ট মুলার। ফ্লিনের স্বীকারোক্তি সেই তদন্তে বড় অগ্রগতি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। মুলারের তদন্তে তিনি সহায়তা করছেন বলে জানানো হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যমগেুলো বলছে, রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে ফ্লিনকে যারা নির্দেশ দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জেরাড কুশনারও আছেন- এমন সাক্ষ্য দিতেও প্রস্তুত মাইকেল ফ্লিন।

সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট মার্ক ওয়ার্নার সাংবাদিকদের বলেন, সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনে কুশনারকে আবারো জেরা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজস্ব পন্থাতেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনে আমরা সকল সাক্ষীর পুনরায় সাক্ষাৎকার নেব। এমন তালিকায় জেরাড কুশনার থাকতে পারেন।’

যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব বিষয়ে মাইকেল ফ্লিন একাই জড়িত।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের শীর্ষস্থানীয়দের অন্যতম ছিলেন মাইকেল ফ্লিন। ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের আগে রাশিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এফবিআই। এর জের ধরেই গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ ছাড়তে বাধ্য হন মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই লেফটেন্যান্ট জেনারেল।