ম্যারিকো বাংলাদেশ এর বিরুদ্ধে কর্মচারীদের অর্থ লোপাটের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক: ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ২৭ কোটি টাকা লোপাট/আত্বসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা বর্তমানে বাংলাদেশ লেবার কোর্টে মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। মামলা নং বিএলসি-৬৯১/২০১৪ । ম্যারিকো কর্তৃপক্ষ উল্লেখিত সময়ে অর্জিত লভ্যাংশের অংশ থেকে সরকার নির্ধারিত কর পরিশোধ না করে এবং সাবেক কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রতিশ্রুত অর্জিত লভ্যাংশের অংশ প্রদান না করে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি করছে ।

ম্যারিকো একটি বহুজাতিক কোম্পানী যা বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটে তালিকাভূক্ত । মূলত প্যারাশুট নারিকেল তেল, নিহার আমলা তেল, সাফোলা রাইস ব্রাউন তেল সহ আরো বেশ কিছু পণ্য বাংলাদেশে বাজারজাত করে । যে কর্মকর্তা কর্মচারীদের রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রমের দ্বারা ব্যাবসা প্রসারিত করছে, সেই কর্মী বাহিনীই সুবিধা বঞ্চিত। ২০০৬ সাল হতে ম্যারিকো তার কর্মীদের তৎকালীন লভ্যাংশের ২৭ কোটি টাকা সহ সরকারের পাওনা ১০% টাকা এখনও পরিশোধ না করে তা আত্বসাত করেছে। এ বিষয়ে ম্যারিকো কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে কোন জবাব পাওয়া যায়নি ।

শ্রম আইন অনুযায়ী ম্যারিকো তাদের শতাধিক কর্মীকে লভ্যাংশ দিতে বাধ্য। কিন্তু ম্যারিকো ২০১৩ সালের আগের বছর গুলোতে যথেষ্ট মুনাফা করার পরও কর্মচারীদের লভ্যাংশ পরিশোধ করেনি ।

ম্যারিকোর বেশ কিছু প্রাক্তন কর্মী যারা ২০০৬ সাল হতে ২০১৬ অবধি বিভিন্ন সময়ে ম্যারিকোতে কর্মরত ছিলো তারা ঢাকা নিউজ ২৪ ডট কমকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন -‘আমরা চাকুরীরত অবস্থায় বারবার প্রতিশ্রুত লভ্যাংশের অংশের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবগত করি কিন্তু উর্ধতন কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি । পরবর্তীতে সাবেক কর্মকর্তা কর্মচারীরা একমত হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হই । তার পরেও ম্যারিকো নানান অজুহাতে তিন বছর যাবত আদালতে সময় প্রার্থনা করে চলছে এবং উক্ত মামলার স্বাভাবিক গতিপথকে বাধাগ্রস্থ করছে ।

ইউনিলিভারসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানী তার অর্জিত লভ্যাংশের অংশ কমীদের মাঝে পরিশোধ করে থাকে । ইউনিলিভারের কমীদের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে অর্জিত লভ্যাংশের অংশের জন্য বাংলাদেশ লেবার কোর্টে একটি মামলা হয় । ইউনিলিভারের পক্ষ থেকে পাওনা পরিশোধের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তার সমাপ্তি ঘটে ।

তারা আরো বলেন ম্যারিকোর প্রাক্তন কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রতিশ্রুত ও অর্জিত বকেয়া লভ্যাংশের অংশ পেলে আমদের সংসারে আরো স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারবে । আমরা ন্যায্য পাওনা আদায়ে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সহযোগীতা কামনা করছি।