জমে উঠেছে শীর্ষস্থানের লড়াই

নিউজ ডেস্ক: ঢাকায় শেষ দুই ম্যাচ হারের পর চট্টগ্রামে শুভসূচনা করল ঢাকা ডায়নামাইটস। ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখলেন এভিন লুইস। মাত্র ৩১ বলে ক্যারিবীয় এ ওপেনার খেলেন ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস। স্বাগতিক চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে সাত উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।

এ জয়ের পর নিট রানরেটে খুলনাকে পেছনে ফেলে টেবিলের শীর্ষে উঠেছিল ঢাকা। তবে তা স্থায়ী হয় মাত্র পাঁচ ঘণ্টা। পরের ম্যাচেই রাজশাহী কিংসকে হারিয়ে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করে খুলনা টাইটানস। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল রাতের ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর দল জিতেছে ৬৮ রানে। নিকোলাস পুরান (৫৭), আফিফ হোসেন (৫৪) ও নাজমুল হোসেন শান্তর (৪৯) দৃঢ়তায় খুলনা তোলে ৫ উইকেটে ২১৩ রান। জবাবে রাজশাহী গুটিয়ে যায় ১৪৫ রানে। ম্যাচসেরা পুরান।

দুপুরে টস জিতে ব্যাটিং নেয় চট্টগ্রাম। অধিনায়ক লুক রনকি (৫৯) ও এনামুল হক বিজয়ের (৭৩) জোড়া ফিফটিতে পাঁচ উইকেটে ১৮৫ রানের বড় পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। জবাবে লুইস ঝড়ে ১৮ দশমিক ৫ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে ঢাকা। ম্যাচসেরা লুইস। এ জয়ে নয় ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফ খেলা একপ্রকার নিশ্চিত করে ফেলল ঢাকা। অন্যদিকে চট্টগ্রামের আশা শেষ। নয় ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দলটি লিগ টেবিলের তলানিতে।

চট্টগ্রাম পর্বে দারুণ জমে ওঠে বিপিএল। শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে ছিল সব কয়টি দলই। কিন্তু গতকাল সবার আগেই রেস থেকে বিদায় নিল চট্টগ্রাম। যদিও বড় কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন রনকি-এনামুল। দ্বিতীয় উইকেটে তারা গড়েন ১০৭ রানের জুটি। ৪০ বলের মোকাবেলায় ৫৯ রান করেন রনকি। ইনিংসটি সাজান সমান চারটি করে চার-ছক্কার মারে। রনকি বিদায় নিলেও ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে যান এনামুল। মাত্র ৪৭ বলে ৭৩ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল তিনটি চার ও ছয়টি ছক্কার দ্যুতিতে। তার আগে মাত্র ৩১ বলে তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি।

একটা সময় মনে হচ্ছিল, চট্টগ্রামের স্কোর ২০০ পার হবে। কিন্তু স্লগ ওভারে সেভাবে ঝড় তুলতে পারেননি ফন জিল-সিকান্দার রাজা। মাত্র ১০ দশমিক ৩ ওভারে এক উইকেটে ১০১ রান তোলার পর শেষ পর্যন্ত ১৮৫/৫-এ থামে চট্টগ্রাম।

রান তাড়া করতে নেমে ভাইকিংস বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে ওঠেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান লুইস। দলীয় এক রানের মাথায় আফ্রিদি (০) ফিরে গেলেও ঢাকাকে চাপে পড়তে দেননি তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে জো ডেনলিকে সঙ্গী করে ১২ ওভারেই তুলে নেন ১১৮ রান। সানজামুলের এক ওভারে চার ছক্কায় ২৬ রান তুলে নেন এ হার্ডহিটার। ২৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন। শেষ পর্যন্ত রায়াদ এমরিটের বলে ডিপ কাভারে ক্যাচ দিয়ে থামে লুইস ঝড়। তার ৭৫ রানের ৬৬ রানই আসে বাউন্ডারি থেকে। ছিল তিনটি চার ও নয়টি ছক্কা।

প্রথমবারের মতো বিপিএলে খেলতে নেমেই চমক দেখান ইংলিশ ব্যাটসম্যান ডেনলি। লেগ স্পিনার তানবীর হায়দারের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ৩৯ বলে ৪৪ রান। এরপর চতুর্থ উইকেটে ৬৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাকি পথটুকু পার করেন ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও সাকিব। চার হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেয়া অধিনায়ক সাকিব অপরাজিত থাকেন ২২ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ডেলপোর্ট ২৪ বলে দুটি চার আর তিনটি ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে। তাতে সাত বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ঢাকা। চলতি আসরে এটাই সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়া করে জয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

চিটাগং ভাইকিংস-ঢাকা ডায়নামাইটস

চিটাগং: ২০ ওভারে ১৮৭/৫ (এনামুল ৭৩, রনকি ৫৯; নারাইন ১/১১)। ঢাকা: ১৮.৫ ওভারে ১৯১/৩ (লুইস ৭৫, ডেনলি ৪৪, ডেলপোর্ট ৪৩; তানবীর ১/১৮)। ফল: ঢাকা ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: এভিন লুইস।

খুলনা টাইটানস-রাজশাহী কিংস

খুলনা: ২০ ওভারে ২১৩/৫ (পুরান ৫৭, আফিফ ৫৪, শান্ত ৪৯, ব্রাফেট ৩৪*; ফ্রাংকলিন ৩/৫০)। রাজশাহী: ১৯ ওভারে ১৪৫ (রনি ৩৬, মিরাজ ২৯; শফিউল ৪/২৬)। ফল: খুলনা ৬৮ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: নিকোলাস পুরান।