জঙ্গি উৎপাদনকারী বিএনপি-খালেদার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন: তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘পুরো দেশ জঙ্গির বিরুদ্ধে আছে, গণমাধ্যম ও রাজনীতিকদের জঙ্গি উৎপাদন ও পুণরুৎপাদনকারী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে। দেশরক্ষায় এর বিকল্প নেই।’

রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০১৭ প্রদান অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট সাংবাদিকতায় ১৫ ক্যাটাগরিতে ১৬ জন, টেলিভিশন সাংবাদিকতায় ৮ জন, অনলাইন সাংবাদিকতায় ৩ জন ও রেডিও সাংবাদিকতায় একজনসহ মোট ২৭টি ক্যাটাগরিতে ২৮ জন সংবাদিকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী।

ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা’র সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ’র সাবেক নেতা শাহজাহান সর্দার, সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জিলানী মিল্টন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এমুহূর্তে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করছি। মনে রাখতে হবে, জঙ্গিবাদীরা ঘোষণা দিয়েই যুদ্ধ শুরু করেছে, যেমন ঘোষণা দিয়েই বেগম খালেদা জিয়া দেশেও ওপর ৯৩ দিনের আগুনযুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিলেন। আর একথাও সত্য যে, সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধেই দেশের গণমাধ্যম সকল সময়ে সাহসী বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। একাত্তরে অত্যাচারী পাকিস্তানি, পরবর্তীতে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং সাম্প্রতিককালে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে কলমযোদ্ধারা আপোসহীন ভূমিকা নিয়েছে, কোনো মাঝামাঝি অবস্থান নেয়নি। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও ইদানিংকালের জঙ্গিতান্ডব ও আগুনসন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও গণমাধ্যম শতভাগ বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়েছে। তাদের এই ভূমিকার জন্য দেশ ও গণতন্ত্র উপকৃত হয়েছে, রক্ষা পেয়েছে।’

ঠিক এই মুহূর্তে দেশের সকলে জঙ্গি ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করে বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে, এখনও জঙ্গি উৎপাদন ও পুণ:উৎপাদন হচ্ছে, পাঁচ বছর পরপর নতুন বিতর্ক তুলে নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা হচ্ছে, পঁচাত্তরের পর থেকে রাজাকার আমদানি ও পুণর্বাসন করা হচ্ছে, সরকার বদলের সাথে সাথে ইতিহাসের পাতায় অদল-বদল ও ইতিহাস বিকৃতি ঘটানো হচ্ছে। অস্বাভাবিক সরকারের নামে ভূতের সরকার প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত করা হচ্ছে ও যুদ্ধাপরাধীদের লালন-পালন ও বাঁচানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে, আগুনসন্ত্রাস করা হচ্ছে। এই সকল ঘটনার জন্য দায়ী জেনারেল জিয়া এবং পরে বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়া।’

মন্ত্রী বলেন, এক কথায় বলতে গেলে, জঙ্গি, রাজাকার ও আগুনসন্ত্রাসীদের যে নাটক এখন মঞ্চস্থ হচ্ছে, তার প্রযোজক হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া, পরিচালক হচ্ছে জামাত এবং কর্মীরা হচ্ছে আগুনসন্ত্রাসী ও রাজাকারেরা। দেখা যাচ্ছে, জঙ্গি, আগুনসন্ত্রাসী ও রাজাকারদের দমন ও বর্জনে সবাই একমত, জামাতের বিরুদ্ধেও আইনগত অবস্থান তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রযোজক বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার বিষয়ে গণমাধ্যম ও রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রে এক ধরনের দোদুল্যমানতা ও নিরবতা পরিলক্ষিত হচ্ছে । কিন্তু সত্য হচ্ছে এই যে, প্রযোজক যতক্ষণ সক্রিয় রয়েছে, পরিচালক ও কর্মীদের যতই ধ্বংস করা হোক না কেন, জঙ্গি উৎপাদন, আমদানি ও তান্ডব চলতেই থাকবে। সুতরাং মূল হোতার বিরুদ্ধে গণমাধ্যম সোচ্চার হবে, এটিই জাতি আশা করে। এবং একই সাথে তাদের রাজনীতি ও ক্ষমতার বাইরেই রাখা উচিত।

‘সেকারণেই, পুরো দেশ জঙ্গির বিরুদ্ধে আছে, জঙ্গি উৎপাদন ও পুণরুৎপাদনকারী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে’ আহ্বান জানিয়ে ইনু বলেন, ‘অতীতের মুললিম লীগের মতোই সামরিকতন্ত্রের ঔরসজাত বিএনপি গণতন্ত্রের দল নয়, রাজনীতির একটি বিষফোঁড়া। নির্বাচন নয়, বিএনপির বিষয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ ও রাজাকারদের পুণর্বাসন করা, নির্বাচনের নামে রাজাকারদের রাজনীতিতে হালাল করা। কিন্তু নির্বাচন কখনই রাজাকার-জঙ্গি-যুদ্ধাপরাধীদের হালাল করার কোনো প্রক্রিয়া হতে পারে না।’

গণমাধ্যমকে দেশের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিকরা কখনও কখনও আপোষ করতে পারে, কিন্তু গণমাধ্যম তা পারে না। একারণেই শুধু জঙ্গি ধ্বংস করলেই হবে না, জঙ্গি উৎপাদনকারী কারখানা ও ঘাঁটি-ঘুটি বিএনপি ও খালেদা জিয়াকেও দমন বর্জনের কোনো বিকল্প নেই। জঙ্গি ও রাজাকারের বন্ধু খালেদা জিয়াকে সেভাবেই গণমাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। আর এভাবেই গণমাধ্যম বাংলাদেশকে বাংলাদেশের পথে স্থায়ীভাবে পরিচালনায় শ্রেষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০১৭-তে সংবাদপত্রে শিক্ষা বিষয়ক ক্যাটাগরিতে বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন নয়া দিগন্তের মেহেদী হাসান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রিপোর্টিংয়ে ডেইলি স্টারের মাসুম আলী মোল্লা, অর্থনীতি বিষয়ক রিপোর্টিংয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের ইব্রাহিম হুসাইন, নগর সমস্যা ও সম্ভাবনায় ডেইলি স্টারের হেলেমুল আলম, অপরাধ বিষয়ক রিপোর্টিংয়ে প্রথম আলোর রোজিনা ইসলাম, সংসদ ও নির্বাচন কমিশন রিপোর্টিংয়ে কালের কণ্ঠের কাজী হাফিজ, বিদ্যুৎ জ্বালানিতে ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের আজিজুর রহমান রিপন পুরস্কার পান।

এছাড়া বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ে যৌথভাবে ডেইলি স্টারের সাখাওয়াত লিটন ও ইনাম আহমেদ, ক্রীড়া রিপোর্টিংয়ে প্রথম আলোর মাসুদ আলম, স্বাস্থ্য বিষয়ক রিপোর্টিংয়ে ডেইলি স্টারের কলিমুল পালমা, রাজনীতি বিষয় রিপোর্টিংয়ে সমকালের আবু সালেহ রনি, কৃষি ও পানিতে জনকণ্ঠের কাওসার রহমান, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে মানবকণ্ঠের এম মামুন হোসেন, ব্যাংকিং ও অর্থনীতিতে ভোরের কাগজের মরিয়ম সেজুতি, নারী-শিশুতে যৌথভাবে যুগান্তরের শিপন।