গিরিশ চন্দ্র সেন স্মরণে জাতীয় জাদুঘরে স্মৃতিবক্তৃতা

নিউজ ডেস্ক: সাহিত্যিক, বহুভাষাবিদ, অনুবাদক ও সাংবাদিক ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন স্মরণে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের উদ্যোগ সোমবার স্মৃতিবক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল তিনটায় একাডেমির কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন : ক্ষণজন্মা পুরুষের পথ চলা’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করবেন ড. মোহাম্মদ আলী খান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি থাকবেন সাবেক সচিব হেয়ায়েতুল্লাহ আল মামুন।

ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন ১৮৩৪ সালে নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআন শরীফ আরবী থেকে তিনিই প্রথম বাংলা ভাষায় অনুবাদ করে খ্যাতি অর্জন করেন। ঢাকার পোগস স্কুলে তিনি অধ্যায়ন করেন। এরপর তিনি ফার্সীভাষা শেখেন।

পরবর্তীতে তিনি প্রথমে আরবী ব্যাকরন, আরবী ইতিহাস ও আরবী সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। কর্মজীবনে প্রথমে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। এ চাকুরী ছেড়ে কানপুর ও লক্ষ্ণৌ যান আরবী ও ফার্সি ভাষায় উচ্চশিক্ষাগ্রহণ করতে। অনুবাদের মধ্যদিয়ে তার লেখালেখি জীবন শুরু।

রাজা রামমোহন রায় প্রতিষ্ঠিত ‘ব্রাক্ষন’ ধর্মের দীক্ষা নেন। এই ধর্মের প্রচারক কেশব চন্দ্র সেন’এর পরামর্শে ভাই গিরিশি চন্দ্র সেন প্রথম বাংলায় কোরআন শরীফ অনুবাদ করেন। তার লেখা প্রথম গ্রন্থ হচ্ছে ‘ ব্রক্ষময়ী ’। পরবর্তী পর্যায়ে গিরিশ চন্দ্র সেন ’ এর প্রকাশিত বইগুলো হচ্ছে মিশাকাত শরীফ, বিভিন্ন হাদিস, তাসকিরাতুল আউলিয়া, দিলওয়ান-ই-হাফিজ, গুলিস্তাঁ, বুস্তাঁ, কিমিয়া-ই-আদত।

তিনি দুটি পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে সাংবাকিতা করেন এবং ‘ মহিলা ’নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করে নারীদের নানা বিষয়ে লেখার সুযোগ সৃষ্টি করেন। ১৯১০ সালের ১৫ আগস্ট এই সাহিত্যিক মনিষী ও সাংবাদিক মারা যান।