আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছো নাকি!

নিউজ ডেস্ক: বেইলি রোডের সন্ধ্যার কোলাহল ছিল এক সময় বারী ভাইয়ের দখলে। সিনিয়র মানুষ, গুণী মিউজিশিয়ান আর সদলাপী। অডিও আর্ট স্টুডিওতে তার ঢোকার শিডিউল সবাই জানতেন, কিন্তু কখন, কবে তিনি বেরিয়ে যাবেন তা কেউ জানতেন না। পাশাপাশি ঢাকা শহরের দুটি রেকর্ডিং স্টুডিও অডিও আর্ট ও ডিজিটোন। কোনোদিন স্টুডিও শিফট থাকতো কিংবা না। তাতে বারী সিদ্দিকীর আড্ডার কোনো হেরফের ছিল না। সবার সাথে একই হাসিমুখ, একইরকম নির্মোহ কথা বলতেন।

একবার এসআই টুটুলের সাথে আমার একটি দীর্ঘক্ষণের শিফট নেওয়া ছিল অডিও আর্টে। কিন্তু কোনো এক বিশেষ প্রয়োজনে বারী ভাই শিফট নিয়ে রেখেছিলেন। সাউন্ডটেকের ব্যানারে একটি নতুন কাজের জন্য বারী ভাইয়ের সেই শিফটটি খুব প্রয়োজন ছিল। ভয়ে এসআই টুটুল আর তাকে বলতে পারছেন না। অবশেষে প্রখ্যাত সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার আজম বাবু ভাই বলার পরপরই তিনি তার নিজের স্টুডিও শিফট ছেড়ে দিলেন। এটা খুবই সাধারণ ঘটনা। শুধু স্টুডিও শিফটই নয়, যেকোনো স্টেজ শো’র ব্যাপারে অন্য অধিকাংশ শিল্পী আয়োজকদের সাথে ভীষণ দর কষাকষি করে তবেই যেতেন। কিন্তু বারী সিদ্দিকীর কাছে এসবের বালাই ছিল না। তাকে মিষ্টি করে বোঝালেই হতো। এতে হয়তো এই কিংবদন্তী শিল্পী আর্থিকভাবে অনেকের কাছে ঠকেছেন। অনেক আয়োজক তার এই সারল্যের সুযোগ নিয়েছেন। তবুও কিছু মনে করতেন না বারী ভাই। বলতেন, আরে মানুষ কী মানুষরে ঠকাইবার পারে। এইটা সম্ভব না। খুব কাছের মানুষ ছাড়া বারী ভাইয়ের মন বুঝেছে খুব কম মানুষ।

সুবীর নন্দী ফোনে বললেন, ‘শরীরের অসুস্থতা সত্ত্বেও বারী ভাই যে প্রাণশক্তি দিয়ে গেয়ে গেছেন, সুরের প্রতি গভীর টান আর শ্রদ্ধা ছিল বলে সম্ভব হয়েছে।’

সর্বশেষ একটি অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল। কেমন আছেন? জানতেই, এই তো আর কয়টা দিন আছি। বাঁচতে তো চাই। কিন্তু ক’দিন রাখে আল্লাহ কে জানে। গান গাওয়ানোর কিছু থাকলে বইলো। সময় আমার বেশিদিন নেই।