সাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক অনাচার রুখে দাঁড়াও: সামাজিক আন্দোলন

নিউজ ডেস্ক:  রিপোটার্স ইউনিটির রাউন্ড টেবিল মিলনায়তনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের উদ্যোগে “মানবিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে : সাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক অনাচার রুখে দাঁড়াও” শীর্ষক এক আলোচনা সভা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদের সঞ্চালনা ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিয়াউদ্দিন তারেক আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, বলেন, পাড়া প্রতিবেশী নয়, দুরের লোকজনই এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। প্রতিবেশীরা চুপ আছেন। ১৯৫০-৬৪ সালে দাঙ্গা রোধ করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন অনেকেই। সাধারণ মানুষ যদি সক্রিয় না হন তাহলে শুধু প্রশাসনকে দিয়ে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা যাবেনা। শুধু মাটি আর পতাকার জন্য আমরা যুদ্ধ করি নাই। মানুষের মানবিক মূলবোধ বিনির্মাণে ও সমৃদ্ধি, সম্প্রীতির জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি। আজকের প্রেক্ষাপটে সবাই সচেতন হোন, জেগে উঠুন প্রতিরোধ করুন সামাজিক অনাচার ও সাম্প্রদায়িকতা।

মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আমাদের সমাজে আচার-অনাচার বোধ কি আছে ? মূল্যবোধ গুলি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । অসংবেদনশীল সমাজে পরিণত হচ্ছে। এ দৈন্যতার জন্য আমাদের দেশ সমাজ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধান হলো জনগণের ইচ্ছার দলিল। আমাদের দেশে আজকে নতুন প্রজন্মকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ দেশটাকে তারা কিভাবে গড়তে চায়। সোনার বাংলার গান তারা উপলব্ধি করেন কিনা তা বুঝানোর দাঁয়িত্ব অবিভাবক, সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, বিচারহীনতার কারণে ২০০১ সালে ২৮টি জেলায় সাম্প্রদায়িকতার বিস্ফোরণ ঘটনা ঘটছে। সেখানে আশি বছরের বৃদ্ধ থেকে ৭ বছরের মাসুম বাচ্চা নিগৃহীত হতে হয়েছে। অনেকেই জীবন দিতে হয়েছে, বাড়িঘর ছেড়ে জীবন বাঁচাতে হচ্ছে, ধন সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। যদি এগুলোর বিচার হতো তাহলে পরবর্তীতে এগুলো ঘটনা ঘটতো না। প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা একটি গোষ্ঠী বিচারকার্য সম্পন্ন হতে দেয় না বা চার্জসীট দেয় না। কথায় বলে, বিচারের দীর্ঘসূত্রিয়তা বিচারহীনতার সামিল। এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া আর কোন করণীয় নেই। জনগণকে নিয়েই দাঁড়াতে হবে।

বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, এসব ঘটনার জন্য অশিক্ষিত লোকদের নামে ফেসবুকের অপপ্রচার করে ঘটনার পর ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। বিষয়টি সকলকে উপলব্ধি করতে হবে। এ পরিস্হিতিতে নিকট প্রতিবেশিদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারকে বিচারহীনতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধের কোন বিকল্প নেই। মন্দির, মুর্তি ভাঙ্গা একটা খেলায় পরিণত হচ্ছে। সবাই জানেন এটি করলে কোন বিচার হয় না।

অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন জাতীয় সম্মেলন-২০১৭ প্রস্তুতি পরিষদ কো-চেয়ারম্যান ও সমাজকর্মী ডা. সারওয়ার আলী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, প্রমুখ।