আর্তনাদ

এম এস প্রিন্স

পাখিদের মিলন মেলায় কি মধুর মিষ্টি সুরের গান
পাহাড়ী আভায় মিশে ছুঁইছে গগনকে।
ভোরে ডাক দিয়ে দিবসকে স্বাগত জানানো মোরগ নীড়ে ফিরছে
গো-পাল নিয়ে রাখাল হাসি মুখে বাড়ি আসছে
ঘাটে তরি বেঁধে মাঝি গুণছে তার মায়না।
এমন সময়ে শুধু আমি একা নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে চলছি-
আর শুনছি দাদা-দাদু, বড় বাবা-মা, বড় দাদা-দাদুদেরে কথা।
সে দিন তারা ছিল ছিল না শুধু এই ব্রীজ, এই গাড়ি-
এই পথ-ঘাট, এই শহর নগর।
তাই আজ তারা ঘুম ভাঙতে চায় দেখতে চায়
জন সমুদ্রের ভিরের এই নতুন পৃথিবী।

সেকালে ভাতের অভাবে কত জনা জীবন বাঁচিয়েছে কচুর কাঠ খেয়ে
জীবন বাঁচিয়েছে ধানের খোসা দিয়ে পিঠা বানিয়ে খেয়ে
জীবন বাঁচিয়েছে গাছের লতা-পাতা খেয়ে।
দুর্ভিক্ষের সময়ে চোখের সামনে কত লাশ শকুনে খেয়েছে-
শুকিয়েছে দিবসে কড়া সূর্যের আলোয়।
একমুঠো ভাতের আশে কত জনা মিছিল মিটিং করেছে।
গভীর তৃষ্ণায় পান করতে হতো পুকুরের জল, নদীর জল, বৃষ্টির জল
দূর পাল্লায় যেতে দিনকে দিন হাঁটতে হতো
দূর দেশে চিঠিতে সংবাদ পাঠাতে হতো।
কর্মের অভাবে আপনাকে নিয়োজিত রাখতে হতো কৃষি কাজের মাঝেই।
এই নদীটি পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো তরীর আশে।
শীত কালে কাপড়ের অভাবে লুঙ্গি গায় দিতে হতো
দিনকে দিন বসে থাকতে হতো আগুনের কুণ্ডলি বানিয়ে।
আর আজ রিক্সা-ওয়ালাকে যাত্রি নিয়ে রিক্সা হাতে টানতে হয় না
পায়ে প্যাঠেল দিতে হয় না।
এই নদীর পাড়ে এসে যাত্রি নামিয়ে দিতে হয় না
অনায়াসে বুকের ওপর দিয়ে এপাড় থেকে ওপাড়ে চলে যায়।
বাস ট্রেন এই নদীর ওপর দিয়ে ছুটে চলে এক শহর থেকে আর শহরে।
দূর পাল্লায় যেতে মানুষ-জনকে আর হাঁটতে হয় না
কৃষি কাজের মাঝেই আপনাকে নিয়োজিত রাখতে হয় না
শুধু চিঠির মাঝেই দূর দেশে খবর পৌঁছাতে হয় না।
তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে ফোন আছে ই-মেইল আছে আছে ইন্টারনেট
আর সবুজ শ্যামলে প্রকৃতি সেজেছে কত অপরূপ রূপছায়ায়।
আজ তাই তারা জাগতে চায়
আর এই আশেই আপনার মাঝে তাদের মিষ্টিালাপ-
‘আঁধার পৃথিবীর কেটেছে নীরব সব
হারিয়ে গেছে জীবন এই নতুন পৃথিবীর তরে।’

প্রকৃতি বিমুখে; আজ তাই জাগা হয় না
ধুলায় মিশে গেছে জীবনের সব
মেনে নিতে হলো নিয়তির বিধান।
তবু আকাঙ্খার চোখে তাদের সান্ত¦নার বাণী-
জীবন ক্ষেত্রের এ বেলায় এই নতুন পৃথিবী মধুময় স্বপ্নসৌধ
আমরাও যে তার আশে গল্প লিখি জানে এক অশিক্ষিত কারিগর।