রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশ আজ নজিরবিহীন সঙ্কটের মুখোমুখি

নিউজ ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশ আজ নজিরবিহীন সঙ্কটের মুখোমুখি। রোহিঙ্গা সমস্যার মূল উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধান মিয়ানমারকে করতে হবে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোরত্তোর পর্বে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন।

কক্সবাজার সফরে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, সরকার রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে- এ বিষয়ে সরকারের অভিমত কী জানতে চান ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যিনি সব কাজে ব্যর্থ হন- তিনি তো ব্যর্থ দেখবেনই। ব্যর্থতা ছাড়া সফলতা দেখার মতো মানসিকতা তো তার নেই। তার কথায় গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। মানবিক কোনো গুণাবলী তাদের মধ্যে নেই, তার বক্তব্যকে আমি ধর্তব্যে নেই না। আমরা আমাদের কাজ করে যাবো।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামে কথা আছে পাগলে কিনা কয়- ছাগলে কিনা খায়। চক্ষু থাকতে যে অন্ধ হয় তাকে দেখাবে কে? দেখেও যে দেখতে পায় না, তাকে দেখানোর কিছু নেই। এটা হচ্ছে অনুভূতির ব্যাপার। এটা হচ্ছে বোধ- বোধটা আছে কিনা সেই ব্যাপার। এটা বাস্তবতা যে মানবিক কারণে সহযোগিতা করার অভ্যাস তো তাদের নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ সব সময় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দূর্গত মানুষের পাশে থাকে। এটা আমাদের রাজনীতিরই একটা অঙ্গীকার। বিএনপি-জামাতের ব্যাপার হচ্ছে তারা যতটা দেখানোর জন্য করে, আন্তরিকতার জন্য ততটা করে না। এটা সবাই জানেন ও বোঝেন।

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে খালেদা জিয়ার বিশাল গাড়িবহর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সেখানে যেভাবে সাজসজ্জা নিয়ে ঢোলডগর, হাতি-ঘোড়া সব নিয়ে গেলেন, তাতে উনি দুর্গত মানুষকে দেখতে গেলেন, না কি কোনো বরযাত্রী হিসেবে নিলেন, না অন্য কোনো কারণে গেলেন, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।

রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির জিয়াউর রহমানকে দায়ী করেন শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাটা তো তাদেরই সৃষ্টি। তার স্বামী এটা সৃষ্টি করে গেছেন। কাজেই বিএনপি-জামাতের লক্ষ্য হচ্ছে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। ঘোলা পানিতে কীভাবে মাছ শিকার করবে, এই কাজেই তারা ব্যস্ত।

আবদুর রহমান বদির এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা সত্য যে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে স্থানীয় গরিব জনগোষ্ঠী যারা শাকসবজি চাষ করে, এটা সেটা করে চলত, সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় দরিদ্র মানুষের কষ্টের সীমা নেই। বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে। আমরা এই মানুষগুলোর খাদ্যের ব্যবস্থা করব। তার যেন অভুক্ত না থাকে, সেই ব্যবস্থা করব। ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে খাওয়াতে পারলে ১৫ হাজার মানুষকে খাওয়াতে পারবো না? এত দৈন্য আমাদের নেই।

নজিবুল বশর মাইজ ভা-ারির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যাটির সৃষ্টি হয় জিয়াউর রহমান যখন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। এখানেও কিছু উষকানীদাতা রয়েছে, তাদের আমরা খুজে বের করার চেষ্টা করছি। এখন আমরা রোহিঙ্গাদের আইডি কার্ড করে দিচ্ছি। যাতে তারা কোন খানে যেতে না পারে।

তিনি বলেন, আমি স্পষ্টত বলতে চাই, আমরা শান্তিতে বসবাস করি। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সদভাব রেখে চলতে চাই। তবে আমাদের মাটি ব্যবহার করে আমরা কোন সন্ত্রাসী কর্মকা- হতে দেবো না। বরদাস্ত করবো না। আমরা চাই এ অঞ্চলের সকলে শান্তিকে বসবাস করি। আর এর জন্য একটাই পথ অর্থনৈতিক উন্নয়ন। কাজেই এর জন্য পরিবেশ প্রয়োজন। কাজেই কেউ যদি কেউ উষ্কানীমূলক কর্মকান্ড চালাতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এইচ আই ভি এইডস হয়েছে কয়েকজনের আমি শুনেছি। ইতিমধ্যে আমরা যতেষ্ঠ সচেতন। যাদের মধ্যে এ ধরনের রোগ শনাক্ত করা হয়েছে তাদের আলাদাভাবে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা করবো। আমরা চাইনা এ রোগ সব স্থানে ছড়াক। এর জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ছোট ছোট বাচ্চাদের ভ্যাকসিনও দিচ্ছে, পরিষ্কার স্থানে থাকার ব্যবস্থা করেছি। এসব স্থানে আমরা অনেকগুলো ক্যাম্প ও করেছি। সব বিষয়ে আমরা সচেতন রয়েছি।