বিএনপির জন্যই অশনিসংকেত অপেক্ষা করছে: কাদের

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপির জন্যই অশনিসংকেত অপেক্ষা করছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক-কর্মচারী জমায়েত ও আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ‘বিশ্বঐতিহ্যের দলিল’ হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণকে ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, এমনভাবে নেতিবাচক রাজনীতি তাদের আঁকড়ে ধরেছে যে, আগামী নির্বাচনে না এলে বিএনপির জন্যই অশনিসংকেত অপেক্ষা করছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে জেতার নিশ্চয়তা দিলে তারা খুশি। এখন তো মনে হয়, আদালতের একটা রায় দিয়ে দেওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনকে একটা ম্যান্ডেট দেওয়া উচিত- যে কোনো উপায়ে বিএনপিকে নির্বাচনে জেতাতে হবে। এ রকম একটা রায় নির্বাচন কমিশনের ওপর আদালতেরও দেওয়া উচিত। এটা দিলেই বিএনপি খুশি। তাহলে বিএনপি মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড আর বাজাবে না।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন, তিনি নাকি আওয়ামী লীগকে শুদ্ধ করবেন, মানুষ করবেন। সবিনয়ে বলি- লুটপাট, খুন ও আগুন-সন্ত্রাসের ইতিহাস বিএনপিরই। তাদের এত পাপ জমে গেছে; এটা ধৌত করবে এমন শক্তিও নেই। বিএনপির পাপ যদি ধৌত করতে যাই, তাহলে বুড়িগঙ্গা আরও ময়লা হয়ে যাবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়াকে বলব- আগে নিজেরা শুদ্ধ হোন, তারপর অন্যকে বলুন শুদ্ধ হওয়ার জন্য। তাদের থেকে আওয়ামী লীগ ভালো আছে। আওয়ামী লীগের ভুল-ত্রুটি আছে। একেবারে শতভাগ সঠিক আছে- তা বলছি না। কিন্তু তারা (বিএনপি) তো শতভাগের কাছাকাছি অশুদ্ধ।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ দাবি করার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইতিহাসের মহানায়কের পাশে ইতিহাসের ফুটনোটকে (জিয়াউর রহমান) তুলনা করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানকে যখন স্বাধীনতার ঘোষক বলা হয়, তখন মনে হয় তিনি কবরে শুয়ে ছটফট করেন। কারণ তিনি নিজেই বলে গেছেন- বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ঘোষণা তাদের কাছে ছিল স্বাধীনতার গ্রিন সিগন্যাল।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে এ ছাড়া বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।