ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব পাস

নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত পাস হয়েছে। সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা এ আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় অনেক সংসদ সদস্য ঐতিহাসিক ৭ মার্চকে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের দাবি জানান।

এর আগে বিকেল ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। কার্যপ্রণালি বিধির ১৭৪ ধারায় ধন্যবাদ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘সংসদের অভিমত এই যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বপ্রামাণ্য (ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ) হিসেবে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশ ও জাতির সঙ্গে আমরা গর্বিত এবং এ জন্য ইউনেস্কোসহ সংশ্নিষ্ট সবাইকে জাতীয় সংসদ ধন্যবাদ জানাচ্ছে।’

প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য দেওয়া নোটিশের সময় তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রস্তাবগুলো দু’বছর ধরে নানা পর্যালোচনার পর ইউনেস্কোর উপদেষ্টা কমিটি তাদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড কর্মসূচির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি (আইএসি) কমিটি প্যারিসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ ৭৮টি দলিলকে ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে। এ নিয়ে ডকুমেন্টের সংখ্যা দাঁড়াল ৪২৭টিতে। আইএসির এ কমিটিতে ১৫ জন বিশেষজ্ঞ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে পাওয়া নতুন নতুন প্রস্তাবের দলিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে স্বীকৃতি দেয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ, আজ তা প্রমাণিত। ইউনেস্কোর এ স্বীকৃতি ছিল অত্যন্ত প্রত্যাশিত। বঙ্গবন্ধুর অলিখিত ১৮ মিনিটের ভাষণ বাঙালি জাতিকে জাতীয় মুক্তির মোহনায় দাঁড় করিয়েছিল। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। বঙ্গবন্ধুর দীপ্ত কণ্ঠের ঘোষণা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ যে কেবল বাঙালি জাতিকে আলোড়িত করেনি, বরং বিশ্ববিবেককেও নাড়া দিয়েছে, ইউনেস্কোর এ স্বীকৃতি তারই প্রমাণ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সেদিন সব ধরনের যানবাহন বন্ধ ছিল। লাখ লাখ মানুষ হেঁটে এই জনসভায় এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন রাজনীতির কবি। হাজার বছর পরে পুরো জাতিকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ তিনি সেদিন দিয়েছিলেন। ১৫ আগস্টের পর ইতিহাসের খলনায়করা ক্ষমতায় এসে বার বার ইতিহাস বিকৃতি ও বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার চেষ্টা করেছে। যদিও কোনো স্বীকৃতি ছাড়াই এ ভাষণ হাজার হাজার বছর বাংলার মানুষের হৃদয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে খালেদা-এরশাদ এই ভাষণকে নিষিদ্ধ করে রেখেছিলেন। ভয় হয়, ঘাতকের দল আবার ক্ষমতায় এলে এ ভাষণ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। তাই দানবের শক্তিকে পরাজিত করতে হবে। গত ১২ নভেম্বর বিএনপির সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কী শুনলাম? এই ঐতিহাসিক উদ্যান আজ মিথ্যাচারে কলঙ্কিত হচ্ছে, গণতন্ত্রকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আলোচনায় আরও অংশ নেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, আওয়ামী লীগদলীয় সদস্য আবদুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি, সাবেক চিফ হুইপ আবদুস শহীদ, শামসুল হক টুকু, ইস্রাফিল আলম, বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এ টি এম আবদুল ওহাব, সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস, এনামুল হক, মনিরুল ইসলাম, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, মৃণাল কান্তি দাস, পঙ্কজ নাথ, ডা. এনামুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সানজিদা খাতুন, উম্মে রাজিয়া কাজল, আখতার জাহান, সাবিনা আক্তার তুহিন, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, পীর ফজলুর রহমান, স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী, তাহজীব আলম সিদ্দিকী এবং বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ।