শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে আস্থা ফিরে আসছে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউনের পর উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। দলীয় সূত্রের দাবি, রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসছে। মামলা-মোকদ্দমায় আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরাও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। ওই সমাবেশের পর আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার মনোভাব ফিরে পেয়েছেন বলে মনে করেন নেতারা। সমাবেশ সফল করায় গতকাল সোমবার এক টুইটবার্তায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সমাবেশটি করলেও কার্যত এটি রাজনৈতিক শোডাউনে রূপ নেয়। অপ্রীতিকর কিছু ঘটার আশঙ্কা ছিল সমাবেশ ঘিরে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহনশীলতা ও উচ্চ পর্যায়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ২৩ শর্ত দিলেও সেই নিয়ম ভেঙে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির এই সহনশীল আচরণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা। তারা বলছেন, এ ধরনের আচরণ বজায় থাকলে দেশে গণতন্ত্র চর্চার পথ সুগম হবে।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিএনপি নির্বিঘ্নে সমাবেশ শেষ করেছে তা ইতিবাচক, যদিও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে নতুনত্ব কিছু নেই। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করা উচিত হবে না। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের আরপিও সংশোধন করা উচিত। বিএনপি চেয়ারপারসন উন্নতমানের বক্তব্য দিয়েছেন, হিংসাত্মক কিছু বলেননি।

তার বক্তব্যে মনে হয়েছে বিএনপি হার্ডলাইনে যাবে না। হয়তো তারা নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সমাবেশকে কেন্দ্র করে জনদুর্ভোগ চরমে ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, সমাবেশের জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা উচিত। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন ছুটির দিন ছাড়া সমাবেশ করা যাবে না। তিনি বলেন, ছুটির দিনে সমাবেশ হলেও জনদুর্ভোগ কমবে বলে মনে হয় না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সরকারের দেওয়া শর্তের মধ্যে থেকে বিএনপি সমাবেশ করেছে। তবে সরকারের অনুমতি দেওয়া এবং কোনো সহিংসতা না ঘটা স্বস্তিদায়ক। যদিও দেশের প্রধান দু’দলই নিজ নিজ পক্ষে অনড়। তারা নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচন করতে চায়। দু’দলই অনড় থাকলে এবং শক্তিমত্তা দেখালে পরিস্থিতি অচলাবস্থার দিকে যাবে। এটা দেশবাসীর কখনও কাম্য নয়।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন স্থানে বাধা ও গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছিল। এর পরও মানুষজন হেঁটে সমাবেশে স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে এসেছে। সরকার বাধা দিয়েও আটকাতে পারেনি। জনসভা শেষ পর্যন্ত জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বিশাল সমাবেশ করতে পারায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসছে। আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ ধানের শীষে ভোট দেবে এবং বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি মজবুত হবে বলেও মনে করেন তিনি।