টিপিপি চুক্তি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা

নিউজ ডেস্ক: ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা। যুক্তরাষ্ট্র সরে গেছে, কিছু ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে কানাডা, এরপরও এই চেষ্টা চলছে।

ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপের ১১ সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীরা ভিয়েতনামে এপেক শীর্ষ বৈঠকের পাশাপাশি এক বৈঠকে মিলিত হন। প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য একটি নতুন কাঠামোতে সম্মত হয়েছেন তাঁরা। এই ১১ দেশের প্রতিনিধিরা বিবৃতিতে বলেছেন, তাঁরা মুক্ত ও অবাধ বাণিজ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ।

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রসহ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২টি দেশ বহুল বিতর্কিত টিপিপি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়া নীতির আওতায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ব্রুনাই, কানাডা, চিলি, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম। এই ১২টি দেশ বর্তমান বিশ্ব বাণিজ্যের ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ইচ্ছাকৃতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক রাখা চীনকে এ জোট থেকে দূরে রাখা হয়। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই চুক্তি থেকে সরে আসার কথা জানান নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মাধ্যমে নিজের দেশকে টিপিপি থেকে প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় এখন এ জোটকে বলা হচ্ছে টিপিপি-১১।

গত সপ্তাহে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছিলেন, নতুন এই টিপিপি চুক্তিতে যেতে চায় না তাঁর দেশ। তবে গতকালের বৈঠকে কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো সভায় কানাডা থাকবে না এমন ইচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নেই। শ্রম ও পরিবেশগত অধিকার রক্ষার বিষয়টি নতুন চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হবে, কিন্তু চুক্তি এগিয়ে নিতে অনেক কাজ করা প্রয়োজন। কানাডার কর্মকর্তারা দাবি করেন, এমনটা কেবল কানাডাই মনে করছে না, অন্য দেশগুলোও ভাবছে।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র না থাকায় বাণিজ্য চুক্তিটি কিছুটা আকর্ষণ হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাদে টিপিপি-১১ এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির মাত্র ১৩ দশমিক ৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।