আফ্রিদি-লুইসের তাণ্ডবে উড়ে গেল সিলেট

নিউজ ডেস্ক: কী ঝড়টাই না তুললেন শহিদ আফ্রিদি। তার চেয়েও কম যাননি এভিন লুইসও। এর আগে বোলিংয়েও বাজিমাত করেন আফ্রিদি। সবমিলিয়ে আফ্রিদিময় ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সকে ৮ উইকেটে গুঁড়িয়ে বিপিএলের পঞ্চম আসরে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস।

বিপিএলের পঞ্চম আসরে টানা তিন ম্যাচ জেতার পর চতুর্থ ম্যাচে এসে হারের মুখ দেখে সিলেট। শনিবার টানা দ্বিতীয় হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি। অন্যদিকে সিলেটের কাছে হার দিয়ে টুর্নামেন্টে শুরু করা ঢাকা পেল টানা দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে সিলেটের কাছে ৯ উইকেটে হেরে যাওয়া সাকিব আল হাসানের দল শনিবার বড় জয় দিয়ে প্রতিশোধ নিল।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠি ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১০১ রানে আটকে যায় সিলেট সিক্সার্স। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে আফ্রিদি ও লুইসের তাণ্ডবে মাত্র ৭.৫ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ঢাকা।

ওপেনিংয়ে নামা আফ্রিদি ১৭ বলে ৫টি ছক্কা ও ১টি চারের সাহায্যে ৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে লুইস ১৮ বলে ৫টি ছক্কা ও ২টি চারের সাহায্যে ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। সাকিব ১১ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। সিলেটের হয়ে দুটি উইকেটই নেন টিম ব্রেসনান।

সিলেটের করা ১০১ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকার হয়ে ইনিংস ওপেন করতে নামেন আফ্রিদি। টিম ব্রেসনানের করা প্রথম ওভারের তৃতীয় ও পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ঢাকার দর্শকদের মাতান আফ্রিদি। প্রথমটি এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে এবং দ্বিতীয়টি মিডউইকেট দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান তিনি।

তাইজুল ইসলামের করা দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে লং অনের ওপর দিয়ে বল মাঠের বাইরে পাঠান আফ্রিদি। আবুল হাসানের করা তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে একটি চার হাঁকিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় এই পাকিস্তানি তারকাকে।

তাইজুলের করা চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে ফের মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বল সীমানাছাড়া করেন আফ্রিদি। পরের বলকে সীমানার ওপারে পাঠান ডিপ মিডউইকেট দিয়ে। ওভারের পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে এভিন লুইস ছক্কা হাঁকিয়ে ঢাকার বড় জয়কে সময়ের ব্যাপারে পরিণত করেন। ওভারটি থেকে ২৬ রান আদায় করেন আফ্রিদি-লুইস।

ব্রেসনানের করা পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে আফ্রিদি লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফিরে যান। পরের বলে নাসিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন ক্যামেরন ডেলপোর্টও। তবে তারপরও বড় জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি ঢাকার। তৃতীয় উইকেটে সাকিব ও লুইস মিলে ২১ বলে ৪৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ৭৩ বল বাকি থাকতেই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। এরমধ্যে ভানিদু হাসারাঙ্গার করা অষ্টম ওভারের প্রথম পাঁচ বলে তিনটি ছক্কা হাঁকান লুইস।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শহিদ আফ্রিদি, সুনিল নারিন ও আবু হায়দারের বোলিং তোপে পড়ে বড় ধরনের লজ্জার মুখেই পড়তে যাচ্ছিল সিলেট। তবে শেষ উইকেটে তাইজুল ইসলাম এবং আবুল হাসানের দারুণ ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান করতে সক্ষম হয় দলটি। শেষ উইকেটে আবুল হাসান ও তাইজুল ৪২ বলে ৪৮ রানের অপরাজিত জুটি গড়েন।

সিলেটের হয়ে আবুল হাসান ২৬ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন। তাইজুল করেন ২০ বলে ১৬ রান। দানুসকা গুনাথিলাকা ১৫ এবং নাসির হোসেন ১০ রান করলেও আর সবার নামের পাশেই মোবাইলের ডিজিট। উপুল থারাঙ্গা (১), সাব্বির রহমান (১), রস হুইটলি (৬), নুরুল হাসান সোহানরা (৮) ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থ হলে বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিলেট।