বিদ্রোহ বার্তা

এম এস প্রিন্স

কি আশায় কি উদ্দেশ্যে কিসের কারণ
ঘুমন্ত ভানু জাগিতে না জাগিতেই কেন তার ক্রন্দন?
এই প্রশ্নের ক্লান্তিহীন জ্বালা ক্রমে খেয়ে করিল শেষ
অনুসন্ধিৎসু মনে তবু মিলেনি উত্তর কাটেনি কোনো ক্লেশ।
জ্বলিতে জ্বলিতে প্রশ্ন ভারে দুশ্চিন্তায় গিয়াছি প্রায় মরে
এমন কালে এসে রাজ্জাক যা বলি গিয়াছে আমারে-
‘আমার সৃষ্টি মানুষ মারিছে যে এ জগতের
তা’রে কতল কর হাতে লয়ে নজরুলের শমশের।’
সর্বশক্তিমান সর্ব মালিক আমায় দিয়াছেন যে রায়
মরি যদি রাখিব তবু, না দিব যাইতে তাহা যথায়।
কে আছিস আয় না দেখি, আয় তোরা সামনে
গগন তলে আমি ভীম দাঁড়ায়েছি বাঘের ক্ষ্যাপনে।
কি হিসাবে দেখিব কোন ঈশ্বর মানুষ মারিতে দিল বলি
কসম খোদার তা’রে সহ তোরে দিয়া যাব বলী।
আমি নই কোনো আসমান হ’তে ছিটকে পরা কিছু
তোর চরণ তলে যে, মাথা করিব নিচু।
আমি নই কোনো শ্মশান বাসী দানব
আল্লাহ্-র জগতে আমি মানব।
সাহসী নামের মাঝে আমারও একটি নাম-
আমি বিদ্রোহী কবির ভাই দুর্জয় তরীর মাঝি
বাস্তব-লিরিখে মানুষের জয়োগানে ধরিয়াছি জীবন বাজি।
আমি জনম নিয়াছি খোদার সৃষ্টি রক্ষা করিতে
আমি জনম নিয়াছি মানুষকে জাগায়ে তুলিতে।
খোদার জগতে রয়েছে দজ্জাল যত সব
তাহাদের লাগি আমি দানব।
কষিতে বসিয়াছি কষিব হিসাব তিলে তিলে
দেখিব তোর ঠাঁই হয় কোন গগন তলে?
প্রথম প্রশ্ন যদি ধর্ম নিয়া টানি
উত্তর পত্রে উজ্জ্বল বয়ে নাহি আসে কোনো কল্যাণী।
কারণ ধর্ম নহে কোনো মানুষের যুগী
সৃষ্টি ওর তাহাদের লাগি।
জগতে মানুষ মানুষ তবে কভু জীবন অর্থহীন
সত্য ধর্মের আলো না হয়ে হয় যদি আর বিমলিন।
তাই মোহ ছায়া তলে আনি করাও স্বীকার সত্য বশে
স্বীয় স্বর্গ লভে নাহি এলে আছে থাক তা’র মুক্তাকাশে।
তবু তাহার হৃদে কভু না দিয়ো কাঁটা বিঁধে
শেষ পয়গম্বর কয়ে গিয়াছে আল্লাহ্-র সৃষ্টির সুবাধে।
মৃত্যুবশ করাস তুই কোন বাণী বা কা’র হুকুমে
কয়ে যা, না জানি যাহা আমি সাত জনমে।
মূল হেতু হয় যদি তো’র রাজনৈতিক ভাস্কর
চক্ষু খুলিয়া ভাল ভালই দেখিয়া ল এক নজর
মদিনা সনদে কি বলি গিয়াছে শেষ পয়গম্বর।
সর্ব সত্য উৎঘাটন করিতে গিয়া যাহা পাইয়াছি তাহা নাকি
স্বীয় স্বার্থে যত সব করিয়াছিস করিয়া চালাকি।
সত্যের আলো নিভিয়া গিয়াছে একমাত্র তো’র লাগি
তোর কারণেই লাঞ্ছিত ধরাতে ওর যত অনুরাগী।
মরিতে হয় যদি আমি মরিব
নজরুলের শমশের ধরি তবু উত্থান শিরে চলিব।
দেখিব তোর শেষ কোথা
জীবন জয়োরথে এ আমার বিদ্রোহ বার্তা।
কলিজা অঙ্গার তবু না আছে যতখানি জ্বালা পুড়া
তারোধিক পাইয়াছি হেরিয়া ভানুর চোখের জল ঝরা।
সেও আজিকে মুছে নিয়াছে নয়নের জল
প্রস্তুত করিতে করিবে তো’রে খতল।
তো’র রসোত্তম প্রিয় দর্শনে কাঁদিয়াছে জগৎ
নশ্চেৎ খুলিতে হইয়াছে বহু নারীর নথ।
সুধিবার পণে ধরি না পারিবে কভু আর সুধিতে
না পারিবে সে সোনার দিন গুলো ফিরায়ে দিতে।
তবু না হয়, তবু সহিব কেমনে ওরে
সীমা লঙ্ঘন করিতে করিতে করিলে সর্বশান্ত চিতায় পুড়ে।
জ্বলিয়া পুড়িয়া কিছু নাই নাহি কিছু করিবার মম বর্ণন
বাঁচিবার আশে তাই গল্প ঘুরে করিছে আসন গ্রহণ।
শুধু যে তা তাহা নহে-
আকাশ বাতাস সবুজ শিশিরে বিন্দু কণাও কানের দোলে
বিদ্রোহ বার্তা আমার নিয়াছে রসনা করিয়া ঝুলে।
প্রিয় সত্য রাখিতে টিকে ধরি খোদার আরশ-খানি
পণ করিয়াছে ভানু প্রস্তুত দিতে জান কোরবানী।
সময় সুযোগে করিয়া পূরণ ইচ্ছে যত আপনার
না হয় গেলি, দিন বদলেতে নহে কভু তোর আর।