ডিসেম্বর থেকে কাস্টমসে সবার জন্য ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক

নিউজ ডেস্ক:  এতদিন কেবল ইন্সপেক্টর থেকে সুপারিন্টেনডেন্ট পদ পর্যন্ত ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক থাকলেও ডিসেম্বর থেকে কাস্টমসের সব পদে কর্মরতদের ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক হতে যাচ্ছে। সেসঙ্গে ইউনিফর্মের রঙ, নকশা ও র‌্যাংক ব্যাজের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে গোয়েন্দা শাখায় কর্মরতরা এ বাধ্যবাধকতায় পড়ছেন না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কাস্টমস কর্মীদের ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক হলে সেবার মান বাড়বে। পাশাপাশি বিষয়টি পেশাদারিত্বেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, গত জুনে লাকসামে অবৈধ ভারতীয় মসলা মজুদ থাকার খবর পেয়ে কাস্টমস সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার নিপুণ চাকমা। কিন্তু তারা সাদা পোশাকে থাকায় ডাকাত ভেবে স্থানীয়রা তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় দুই নারীসহ কাস্টমসের আট কর্মকর্তা আহত হন। এ ঘটনায় জেলা কাস্টমস রেভিনিউ অফিসার শর্মিষ্ঠা রায় বাদী হয়ে লাকসাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কুমিল্লার মতো দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাতে গিয়ে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এ বিষয়ে সংস্থার অনেক কর্মীর মনেই ক্ষোভ ছিল।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সভায় কাস্টমস কর্মকর্তারা তাদের অভিযোগ তুলে ধরলে এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. নজিবুর রহমান বিষয়টিতে অন্যদের মতামত চান। পরে সবার মতামতের ভিত্তিতে ডিসেম্বর থেকেই কাস্টমসের সেপাই থেকে মহাপরিচালক পর্যন্ত সবার জন্য ইউনিফর্ম পরিধান বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি ইউনিফর্মের রঙ ও নকশা বদলেরও সিদ্ধান্ত হয়। পরে একটি কমিটি গঠন করে ইউনিফর্মের রঙ ও নকশা চূড়ান্ত করা হয়। তবে এখনো র‌্যাংক ব্যাজের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

কমিটির একাধিক সদস্য জানান, কাস্টমসের ইউনিফর্মের জন্য নীল রঙ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নকশাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু র‌্যাংক ব্যাচ নিয়ে একাধিক মত থাকায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা যায়নি। তবে সবার মতামতের ভিত্তিতেই র‌্যাংক ব্যাচ চূড়ান্ত করা হবে বলে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের বড় বড় সব প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ইউনিফর্ম থাকে। এর কিছু কারণও থাকে। সেবাগ্রহীতারা যাতে খুব সহজেই বুঝতে পারেন যে, কোথায় গেলে এবং কার কাছে গেলে কোন সেবা পাবেন। ব্যক্তির পদবি অনুযায়ী আলাদা ইউনিফর্ম হওয়ায় সেবাগ্রহীতারা সহজেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে খুঁজে বের করতে পারবেন। তাছাড়া ইউনিফর্মের কারণে কর্মকর্তাদের কাজে গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বচ্ছতাও বাড়বে।

কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউনিফর্ম প্রবর্তনের সিদ্ধান্তে সংস্থার সর্বস্তরে উদ্দীপনা কাজ করছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কাস্টমসের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। কর্মকর্তাদের অনেকে পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মিল রেখে র‌্যাংক ব্যাজ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এআরওদের র‌্যাংক ব্যাজ ফিতা ছাড়া এক পিপস এবং আরওদের র‌্যাংক ব্যাজ ফিতা ছাড়া দুই পিপস হলে কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। এছাড়া নারীকর্মীদের জন্য ভিন্ন ইউনিফর্মের দাবি জানিয়েছেন নারী কর্মকর্তারা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মঈনুল ইসলাম খান বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় কাস্টমস কর্মকর্তারা শুধু ইউনিফর্ম নয়, অস্ত্রও ব্যবহার করেন। এমনকি প্রয়োজনে তারা রেডারও ব্যবহার করেন। তাছাড়া থাইল্যান্ড থেকে আমেরিকা পর্যন্ত কাস্টমসের সব কর্মকর্তাই ইউনিফর্ম ব্যবহার করেন। কারণ সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে ইউনিফর্ম শুধু শরীরের আবরণ হিসেবে নয়, কাজ করে দায়িত্ব বোধ, নৈতিকতা এবং কর্মস্পৃহার ক্ষেত্রেও। এসব বিষয় মাথায় রেখেই কাস্টমসের ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

র‌্যাংক ব্যাজের ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পূর্বের র‌্যাংক ব্যাজ নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতেই এবার র‌্যাংক ব্যাজ চূড়ান্ত করা হবে।