অবুঝ চোখ খুঁজে ফিরে মায়ের কোল

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরীর ন্যাশনাল প্রাইভেট হাসপাতালে তিন মাস আগে হাটহাজারীর পূর্ব দেওয়াননগর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী রাহা জন্ম দেয় একটি মেয়ে শিশু। কিন্তু জন্মের সময় শিশুটির ওজন কম এবং শ্বাসকষ্ট থাকায় তাকে ভর্তি করা হয় নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ)। সেখানে তিন দিন রাখার পর শিশুটি তার স্বাভাবিক ওজন ফিরে পেতে শুরু করে ও সুস্থ হয়ে ওঠে। ততদিনে শিশুটি হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় তার বাবা-মা।

এদিকে তিন মাস ধরে নবজাতকটি এনআইসিইউতে পড়ে থাকায় সম্প্রতি নগরীর চকবাজার থানায় একটি জিডি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে থানার এসআই পল্টু বড়ূয়া জানান, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহু চেষ্টা করেও শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। তাই বিষয়টির বিস্তারিত তুলে ধরে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে একটি প্রতিবেদন শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ন্যাশনাল হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজার মো. ফারুক জানান, ‘আমাদের রেজিস্টারে শিশুটির বাবা জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী রাহা নিজেদের বাড়ি হাটহাজারী বলে উল্লেখ করেন। ডেলিভারি ও শিশুটিকে এনআইসিইউতে রাখার জন্য তাদের বিল আসে ৪২ হাজার টাকা। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর শিশুটিকে ছাড় দেওয়ার দিন জাহাঙ্গীর আলম ব্যাংক থেকে টাকা তোলার কথা বলে হাসপাতাল থেকে চলে যায়। পরে তার মাকেও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

আদালতে পুলিশের দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালে ভর্তির সময় জাহাঙ্গীরের দেওয়া মোবাইল নম্বরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার যোগাযোগ করে। কিন্তু টাকা সংগ্রহ করতে না পারার কথা বলে জাহাঙ্গীর আর আসেনি। এর পর ১৪ আগস্ট থেকে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। পরে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জাহাঙ্গীরের দেওয়া ঠিকানা হাটহাজারীর পূর্ব দেওয়াননগরের বাড়িতে যায়। সেখানে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মো. শাহেদুল হক খোকনের সহায়তায় জাহাঙ্গীরের মা হালিমা খাতুনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। হালিমা খাতুন জানান, ছেলের সঙ্গে তাদের দুই বছর ধরে যোগাযোগ নেই। জাহাঙ্গীর বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকটি বিয়ে করেছে। হাসপাতালে থাকা শিশুটি তার কোন স্ত্রীর, সেটা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে এনআইসিইউতে রেখেই লালন-পালন করছে। হাসপাতালের কর্মীরা জানান, চিকিৎসক ও ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য নবজাতকের মায়েরাও শিশুটিকে আদর-যত্ন করেন। তারপরও সে মাঝেমধ্যে এদিক-ওদিক তাকিয়ে কাকে যেন খোঁজে!