ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিপিএ ৬৩তম সম্মেলনে ব্রিটেনের রানীর শুভেচ্ছা বাণী

নিউজ ডেস্ক: নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে ছোট আকারে শুরু হলেও আজ রোববার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) ৬৩তম সম্মেলন। সংস্থাটির ভাইস প্যাট্রন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এ সময় তিনি সিপিএর প্যাট্রন ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথের পাঠানো শুভেচ্ছা বাণীও পড়ে শুনাবেন।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকে মূল কার্যক্রম শুরু হবে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। ৮ নভেম্বর পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সিপিএর ঢাকা সম্মেলনে দুটি প্লেনারি সেশন ও আটটি ওয়ার্কশপে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও এমপিরা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, স্বাগতিক বাংলাদেশ শাখার উত্থাপিত লিঙ্গবৈষম্য, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, সংসদীয় কাজ সম্পর্কে যুবকদের অবহিত করা ছাড়াও কমনওয়েলথের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সংসদ সদস্যদের ভূমিকার বিষয় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত না হলেও সিপিএর বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিষয়টি আলোচনা করবে। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রয়োগ ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে এমপিরা যেসব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন এবং এ থেকে তারা যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন সেসব বিষয়ে মতবিনিময়ের একটা সুযোগ করে দেয় কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলন। আমরা আশা করব স্বাগতিক বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন সম্মেলন সংসদীয় গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা সমুন্নত রাখতে অবদান রাখবে।

সিপিএর অন্তর্ভুক্ত ৫৪টি দেশের ১৮০টি জাতীয় সংসদ ও প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার, ডিপুটি স্পিকার ও এমপিসহ প্রায় ৬৫০ জনপ্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। এ পর্যন্ত ৪৪টি দেশের ১১০টি ব্রাঞ্চের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন। বাকিরাও আসার পথে রয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে সিপিএ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শীরিন শারমিন চৌধুরী ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচিত করেছেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া।

কমনওয়েথভুক্ত দেশগুলোর পার্লামেন্টের সমন্বয়ে সিপিএ গঠিত হয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময়ে ১৯২২ সালে অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হওয়ার সময় এর নাম ছিল ইম্পেরিয়াল পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (ইপিএ)। তখন এর সদস্য ছিল অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউফাউন্ডল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাজ্য। পরবর্তীকালে ১৯৪৮ সালে ইপিএর নতুন নামকরণ করা হয় সিপিএ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবসান হয় এবং ঔপনিবেশিক দেশগুলো স্বাধীনতা লাভ করে। এক সময়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীন রাষ্ট্রগুলো স্বাধীন হলে, স্বাধীন এ রাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হয় কমনওয়েলথ এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ)। বর্তমানে বিশ্বের ৫২টি দেশ কমনওয়েলথের সদস্য।

বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথে যোগ দেয়। কমনওয়েলথের অধিকাংশ সদস্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দেয়। কমনওয়েলথে যোগ দেয়ার পর থেকে বাংলাদেশ কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছে। ১৯৭৩ সালে কানাডার অটোয়ায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো যোগ দেয় বাংলাদেশ। দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।