নির্বাচনে অংশ নেয়া ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবছে না বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া ছাড়া বিকল্প কিছুই ভাবছে না বিএনপি। প্রথমে সমঝোতা এবং পরবর্তীকালে আন্দোলনের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ তৈরি করতে দলটি যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার কক্সবাজার সফরের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী গণজোয়ার দেখে দলটি ব্যাপক আশাবাদী হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মূলত নির্বাচনী প্রস্তুতির চিন্ত্মা করেই যে কোনো নতুন ইসু্যতে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় প্রধানের সফর করার পরিকল্পনা করছে দলটি।

বিএনপি সূত্রমতে, সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিএনপি। বিধ্বস্ত্ম প্রায় দলটি নিয়ে যখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন অনেকে, ঠিক সেই সময় খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার দিনে বিমানবন্দরে জনসমাগম এবং পরবর্তী সময়ে কক্সবাজার সফরে গণজোয়ার বিএনপিকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। এই দুটি ঘটনা আগামী নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে জোয়ারের পূর্বাভাস হিসেবেই দলের সিনিয়র নেতারা মনে করছেন। এ জন্য নির্বাচনের বিকল্প কোনো কিছুই ভাবতে চাচ্ছেন না তারা।

বিএনপি সিনিয়র এক নেতা বলেন, মানবিক কর্মসূচির পালনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কক্সবাজার সফর করেছেন। কিন্তু এই সফরে জনগণ বিএনপিকে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচনী ট্রেনে উঠতে হবে। আর জনগণের দল হিসেবে বিএনপি গণদাবি উপেক্ষা করতে পারে না। সঙ্গত কারণে বলা যায়, দলীয় প্রধানের কক্সবাজার সফরের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী ট্রেনে উঠে গেছে বিএনপি। কোনো অবস্থাতেই এই ট্রেন থেকে আর নামানো যাবে না।

বিএনপির মধ্য সারির প্রভাবশালী এক নেতা বলেন, ৬টি সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সফর করতে পারেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া আগামী ২০ নভেম্বর বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়াতে উৎসব করতে চায় স্থানীয় বিএনপি। সেখানেও খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের বিষয়ে নেতাকর্মীদের চাপ আছে। সে ক্ষেত্রে এ মাসেই ঢাকার বাইরে আবারও যেতে পারেন বিএনপি প্রধান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির রাজনৈতিক পরিকল্পনা হচ্ছে- প্রথমত: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে নানা তৎপরতার মাধ্যমে আলোচনা ও সমঝোতার পথে সরকারকে টেনে আনা এবং দ্বিতীয়ত: আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা।

দলটির নেতারা বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত্ম ইতিবাচক। আর এ কারণেই সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি প্রক্রিয়ায়ই তারা অংশ নিয়েছেন। শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তারা বৈঠক করেছেন, এর আগে দলটি নির্বাচন কমিশন নিয়ে নিজস্ব চিন্ত্মা-ভাবনা তুলে ধরেছে। ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার রাজনীতি করার প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে ‘ভিশন-২০৩০’ তুলে ধরেছে। ইসি’র সংলাপেও অংশ নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, এক-এগারোর পর থেকে গত ১০ বছর ধরে রাজনৈতিক দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলেও দলটি সীমিত আসন নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে তারা। ওই নির্বাচনের আগে ও পরে আন্দোলন ব্যর্থতা এবং একই সঙ্গে সরকারের দমন-পীড়নে বিএনপি অনেকটাই চাপে পড়ে যায়। বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি না নেয়ায় গত দুই বছরে দলটি সাংগঠনিকভাবে এখন অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।