লিম্ফোমা একটি নিরাময়যোগ্য রোগ

নিউজ ডেস্ক: লিম্ফোমা হলো এমন এক ক্যানসার, যা লিম্ফেটিক সিস্টেমে হয়ে থাকে। লিম্ফনোড (লিম্ফ গ্র্যান্ড), স্পিন, থাইমাস গ্ল্যান্ড এবং বোনম্যারোর (অস্থিমজ্জা) মাধ্যমে লিম্ফেটিক সিস্টেম গঠিত। সাধারণত এসব অংশে লিম্ফোমা দেখা দেয়। এ ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশেও এ রোগ হতে পারে।

প্রকারভেদ : লিম্ফোমা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। প্রধান দুটি লিম্ফোমা হলোÑ হজকিনস লিম্ফোমা এবং নন হজকিনস লিম্ফোমা।

রোগের কারণ : লিম্ফোমার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন কারণে এ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

লক্ষণ : এ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে যেসব লক্ষণ দেখা যায় তা হলোÑ অবসাদ, ঘাড়ে শক্ত পি- দেখা দেওয়া, খাবার উগরে আসা, কর্কশ কণ্ঠস্বর, মাংসেপশিতে ব্যথা, মুখে ব্যথা, কুঁচকি ফুলে যাওয়া, মুখে ঘা, সারা শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, কাঁধে শক্ত পি- দেখা দেওয়া, কানে চুলকানি ইত্যাদি।

যাদের জন্য রোগটি ঝুঁকিপূর্ণ : হজকিনস লিম্ফোমার ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো হলোÑ আগে এপস্টাইন বার ভাইরাসের (এবিভি) কারণে ইনফেকশন অথবা মনোনিউক্লিওসিস দেখা দিলে। দুর্বল ইমিউন সিস্টেম। যাদের বয়স ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং যাদের বয়স ৫৫ বছরের বেশি তাদের এ রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। ৫ শতাংশ ব্যক্তি বংশগত কারণে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

নন হজকিনস লিম্ফোমার ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো হলোÑ যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি, তাদের এ রোগ হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক পদার্থ, যেমনÑ বেনজিন এবং কীটনাশকের সংস্পর্শে এলে এ রোগ হতে পারে।আগে কেমোথেরাপি অথবা রেডিয়েশন থেরাপি গ্রহণ করলে রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। রেডিয়েশন এক্সপোজার। দুর্বল ইমিউন সিস্টেম এবং এইচআইভি ইনফেকশন। এইচআইভি, এইচটিএলভি-১, এইচএইচভি বা এপস্টাইন বার ভাইরাসে (এবিভি) ইনফেকশন দেখা দিলে রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। হ্যালাকোব্যাকটার পেলোরাইয়ের কারণে ক্রনিক ইনফেকশন দেখা এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

চিকিৎসা : এ রোগের ধরন, তীব্রতার ওপর নির্ভর করে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা করা হয়। কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন, স্টেমসেল ট্রান্সপ্লান্ট এবং ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করা হয়।

পরামর্শ : লিম্ফোমা প্রতিরোধে কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। এইচআইভি, ইবিভি হেপাটাইটিস ভাইরাসের কারণে ইনফেকশন দেখা দিলে এ রোগ হয়ে থাকে। ঘন ঘন হাত ধোঁয়া, নিরাপদ যৌন সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে এ ধরনের ইনফেকশন প্রতিরোধ করা যায়। এ ছাড়া অন্যের ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুচ, রেজার, টুথব্রাশ ব্যবহার করাও উচিত নয়। হজকিনস লিম্ফোমা রোগ থেকে সহজেই মুক্তি মেলে। তবে হজকিনস লিম্ফোমা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সুস্থ হতে বেশ সময় লাগে। অনেক ব্যক্তিই লিম্ফোমার চিকিৎসা করে সুস্থভাবে বেঁচেও আছেন।