তরুণরা রাজনীতিতে এলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে: স্পিকার

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সংসদের স্পিকার ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিতে এলে আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিএর ৩৬তম স্মল ব্রাঞ্চেস কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে পার্লামেন্টের ভূমিকা রয়েছে। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতে সিপিএর পার্লামেন্টগুলো কাজ করছে।

সিপিএ স্মল ব্রাঞ্চ চেয়ারপারসন ও মাল্টা সংসদের স্পিকার এঞ্জেলো ফারুগিয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। সিপিএ মহাসচিব আকবর খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতির হুমকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে জানান স্পিকার।

তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সোচ্চার হতে হবে। জলবায়ুর অভিঘাত ও ক্ষতি মোকাবেলায় প্যারিস চুক্তির আলোকে উন্নত দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শিরীন শারমিন বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশে স্মল ব্রাঞ্চেস দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে সিপিএ। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে আগ্রহী করে তুলতে ও সংসদীয় রীতিনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।

এর আগে পরিবেশ সংক্রান্ত সচেতনতা বিষয়ক বর্ণাঢ্য পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় সিপিএ স্মল ব্রাঞ্চের সম্মেলন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তা উদ্বোধন করেন।

পাঁচ লাখের নিচে জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত কমনওয়েলথভুক্ত দেশ নিয়ে স্মল ব্রাঞ্চ। মূলত দ্বীপ ও ছোট রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত এসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে নানা সমস্যায় ভুগছে। এসব সমস্যা ও এসব দেশে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য তুলে ধরা হয় পরিবেশনায়। সিপিএর মূল সম্মেলন শুরুর আগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে যুবারা রাজনীতিবিমুখ : স্মল ব্রাঞ্চের চেয়ারপারসন এঞ্জেলো ফারুগিয়া বলেন, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং উপযুক্ত দিকনির্দেশনার অভাবে যুবারা রাজনীতিতে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নীতি-নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে তাদের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর স্মল ব্রাঞ্চেস প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

কমনওয়েলথ উইমেন পার্লামেন্টারিয়ানের চেয়ারপারসন ও মালয়েশিয়ার সংসদ সদস্য ড. ডাটো নরাইনি আহমে বলেছেন, প্রচলিত ধারণা ও মানসিকতা নারী অগ্রগতির অন্যতম বাধা। কমনওয়েলথভুক্ত সদস্য দেশগুলোর সংসদে সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ অর্জন করার প্রত্যাশা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

কমনওয়েলথ উইমেন পার্লামেন্টারিয়ান স্টিয়ারিং কমিটির আলোচনার পর এ কথা বলেন তিনি।

সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাগুফতা ইয়াসমিন ও সিপিএ মিডিয়া কমিটির সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।