ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রত্যাহারে চীন

সুমন দত্ত: বাধ দিয়ে নয়। এবার সুড়ঙ্গ দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রত্যাহার করবে চীন। সোমবার হংকং ভিত্তিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়। এই সুড়ঙ্গ হবে পৃথিবীর দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ। যার দৈর্ঘ্য ১ হাজার কিলোমিটার। চীনের সিনজিয়াং প্রদেশের খরা মোকাবেলার জন্য এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে চীন।

তিব্বতে উচ্চ মালভূমিতে জন্ম ব্রহ্মপুত্র নদের। চীনের ভাষায় ওই নদীর নাম  ইয়ারলাং সেংপো।

দক্ষিণ তিব্বতে জন্ম নেয়া এই নদীর পানির গতিপথ এর আগেও পরিবর্তন করতে চেয়েছিল চীন।। সেবা বাধ দিয়ে পানি আটকিয়ে নদীর গতিপথ বদলাতে চেয়েছিল দেশটি। কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশ এ নিয়ে আপত্তি জানানোর কারণে চীন সেখান থেকে সরে আসে। 

কিন্তু এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। চীন সুড়ঙ্গ করে ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহ কমিয়ে দিতে চাচ্ছে।

 তিব্বত-সিনজিয়াং প্রজেক্টের আওতায় চীন এই বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। গত মার্চের এই পরিকল্পনায় অনুমোদন দেয় চীন সরকার। ভারতের অরুণাচল রাজ্যের লাগোয়া তিব্বতে সাংগরি কাউন্টিতে এই সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

প্রকল্প শুরু করতে ওই এলাকায় একটি কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করা হবে। সেখানে ব্রহ্মপুত্রের পানি জমা করা হবে। পরে একটি কুপের মাধ্যমে সুড়ঙ্গ দিয়ে ওই পানিকে সিনজিয়াংয়ে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

১০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে এই পানি যাবে সিনজিয়াং প্রদেশে। তবে চীনের পরিবেশবাদীরা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছে। কারণ এতে সিনজিয়াং ভবিষ্যতে ক্যালিফোর্নিয়ার মত হয়ে  যেতে পারে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পড়তে পারে এই সুড়ঙ্গ। এ কারণে চীনের বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে বাপক গবেষণা করেন।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে নিউ ইয়র্কে রয়েছে সবচেয়ে বিশ্বের দীর্ঘ সুড়ঙ্গ জলপথ। ১৩৭ কিলোমিটার ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে নিউইয়র্কে পানির সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি। চীনের রয়েছে ৮৫ কিমি সুড়ঙ্গ। যার নাম ডোফেং ওয়াটার প্রজেক্ট।  লিওনিং প্রদেশে ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে পানি দেয়া হয়।