পারমানবিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে সৌদি আরব

নিউজ ডেস্ক: বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে সৌদি আরবের তেমন কোনো সমস্যা নেই। তেল পুড়িয়ে দেশটি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকে। কারণ দেশটির রয়েছে বৃহৎ জ্বালানি তেলের ভাণ্ডার। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। খবর আরব নিউজের।

বিদ্যুতের জন্য তেলের ওপর নির্ভর হতে চাইছে না দেশটি। ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য পারমানবিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে সৌদি আরব। সোমবার দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা বলেন।

দেশটির কিং আবদুল্লাহ সিটি ফর এটমিক এন্ড রিনিউবেল এনার্জি প্রধান হাশিম বিন আবদুল্লাহ জামিনি বলেন, সৌদি আরব পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৌদি আরব নিজ দেশের ইউরেনিয়াম খনিকে কাজে লাগাবে। সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম খনি আছে। এক মাহের আল-ওদান খনিতেই ৬০ হাজার টনের মত ইউরেনিয়াম মজুদ আছে সৌদি আরবের।

খনি থেকে ইউরেনিয়াম তুলে তারা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহার করবে। অর্থনৈতিক কারণেই সৌদি আরব পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে।

সৌদি সরকারে পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশটির আণবিক শক্তি শান্তিপূর্ণ উপায়ে ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতি বদলানোর পক্ষে সরকার। ২০১৮ সালের মধ্যে সৌদি সরকার দেশটিতে দুটি পারমানবিক বিদ্যুৎ তৈরি করবে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে মধ্য প্রাচ্যে দ্বিতীয় দেশ হচ্ছে সৌদি আরব। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্মাণ করতে গেলে প্রয়োজন নিউক্লিয়ার রিয়াক্টর। সেটি তৈরির জন্য সৌদি আরব দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছে।

সৌদি আরবের লক্ষ্য বিশাল। ২০৩২ সালের মধ্যে দেশটি ১৭.৬ গিগা-ওয়াট (১৭ হাজার মেগাওয়াট) পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/ সুমন দত্ত