পাঁচ কারণে টি-টুয়েন্টিতে ভাল খেলবে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক : টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজও কেটেছে দুঃস্বপ্নের মত। বৃহস্পতিবার রাতে মাঠে গড়াচ্ছে দুই টি-টুয়েন্টির সিরিজ। শক্তি আর সামর্থ্যের নিরিখে এই ফরম্যাটেই সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

বাস্তবতাটা চোখে দেখা যাচ্ছে। তারপরও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ বলছে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টুয়েন্টিতে দারুণ কিছু করে দেখাতে পারে টাইগাররা। সেসব বিশ্লেষণের ৫টি তুলে ধরা হল-

এসেছে নতুন নেতৃত্ব
মাশরাফী টি-টুয়েন্টি থেকে অবসরের পর ভার চেপেছে সাকিব আল হাসানের কাঁধে। বিশ্ব জুড়ে ২০ ওভারের লিগে দাপটে খেলে বেড়ানো সাকিব ছোট ফরম্যাটের খেলাটা ভালই বোঝেন। আইপিএল, বিপিএল, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা সাকিব নেতৃত্বগুণে বদলে দিতে পারেন দলের হালচাল।

নতুন অধিনায়ক হিসেবে নতুন ধ্যান-ধারনা এবং কৌশল দিয়ে টাইগারদের ভঙ্গুর মনোবল চাঙ্গা করাটাই হতে পারে সাকিবের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সঙ্গে আছে চোটের কারণে প্রথম পছন্দের খেলোয়াড়দের হারানোর মিছিল। সাকিবের ভালই জানা আছে এসব পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিতে হয়।

টি-টুয়েন্টি কেবল ২০ ওভারের খেলা। ব্যক্তিগত কয়েকটি পারফরম্যান্স বদলে দিতে পারে ফলাফল। বল কিংবা ব্যাট, টাইগারদের নতুন টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক একাই সামর্থ্য রাখেন ম্যাচ পক্ষে টেনে নিতে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স আর ক্ষুরধার ক্রিকেটীয় মস্তিষ্ক সম্পন্ন সাকিব যদি জ্বলে উঠতে পারেন, সঙ্গে আর দু-একজন, তাতে আখেরে লাভ বাংলাদেশেরই।

তারকা ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে অন্যদের জ্বলে ওঠার সুযোগ
চোটের কারণে টি-টুয়েন্টি দলে নেই ব্যাটিং-বোলিংয়ের প্রধান দুই ভরসা তামিম ইকবাল এবং মোস্তাফিজুর রহমান। দুই তারকার অনুপস্থিতি টাইগাররা চাইলে নিতে পারেন ইতিবাচকভাবেই।

টি-টুয়েন্টি দলে অনেকদিন বাদে ডাক পেয়েছেন মুমিনুল হক। দলে আছেন প্রোটিয়াদের বিপক্ষে একটি মাত্র ওয়ানডে খেলা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তামিম-মোস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ ভালভাবেই থাকছে দুজনের।

ব্যাটের মরচে ঝেড়ে নিজেদের প্রমাণের দায়িত্বটা নিতে পারেন সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। টেস্ট এবং ওয়ানডে ব্যর্থতার পর টি-টুয়েন্টিতে দুই তারকার জ্বলে ওঠার পেছনে অনেকখানি নির্ভর করছে দলের সাফল্য।

সিনিয়র হিসেবে পারফরম্যান্সের গাঁথুনিটা মজবুত করার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে চাপাতে হবে সাকিব এবং মুশফিকুর রহিমকে। সবকিছু মাপ মত হলে মিলতে পারে সাউথ আফ্রিকা সফরে প্রথম সাফল্যটিও।

খেলাটা টি-টুয়েন্টি বলেই
এক অমিত সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছিল টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের পথ চলা। পরে ক্রমেই ছন্দ হারিয়ে আফগানিস্তানের নিচে নেমে গেছে দল। র‍্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে দশে আছে টাইগাররা।

তবে খেলাটা টি-টুয়েন্টি। ম্যাচে জয় হতে পারে যেকোনো দলেরই। নিজেদের মাটিতে গত বছরই ওয়ানডে এবং টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ধবলধোলাই করেও টি-টুয়েন্টি সিরিজ খুইয়েছিল প্রোটিয়ারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ২-১ হেরে এসেছে ডু প্লেসিসের দল।

চাইলে সেখান থেকেও অনুপ্রেরণা খুঁজে নিতে পারে বাংলাদেশ। হারানোর নেই কিছুই, এমন ধারনা নিয়ে স্বাভাবিক খেলা উপহার দিলে অন্তত খালি হাতে ফিরতে হবে না সাকিবের দলকে।

অনভিজ্ঞ প্রোটিয়া বোলিং লাইনআপ
টেস্ট-ওয়ানডেতে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের নাকানি-চুবানি খাওয়ানো অধিকাংশ বোলারদের টি-টুয়েন্টিতে বিশ্রাম দিয়েছে সাউথ আফ্রিকান নির্বাচকরা। কাগিসো রাবাদা, কেশব মহারাজ, ইমরান তাহিরদের জায়গায় ডাক পেয়েছেন অ্যারন ফাঙ্গিসো, ডেন প্যাটারসন, অ্যান্ডিলে ফেলুকোওয়ের মত আনকোরা বোলাররা।

টাইগার ব্যাটসম্যানদের সামনে তাই সুযোগ প্রোটিয়া অনভিজ্ঞ বোলারদের চেপে ধরে অন্তত টি-টুয়েন্টি সিরিজে নিজেদের সম্মান ফেরানো।

প্রমাণের তাড়না বিদেশের মাটিতে
সাউথ আফ্রিকার মাটিতে জীর্ণশীর্ণ পারফরম্যান্সের পর আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে পুরনো প্রশ্ন, বিদেশের মাটিতে খেলার সামর্থ্য কী অর্জন করতে পেরেছে বাংলাদেশ?

২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিতে ওঠা, কিছুটা হলেও মুখ বন্ধ রেখেছিল সমালোচকদের। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ধবলধোলাই হবার পর আবারও যখন লাগামহীন বিবর্ণ পারফরম্যান্স, তখন চেনানোর পালা নিজেদের।

সমালোচকদের মুখ একদফা বন্ধ করেছিল শ্রীলঙ্কার মাটিতে শততম টেস্টে জয়। ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সিরিজে ড্র করা। কিন্তু আবারও উল্টো পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনে। হাতে আছে কেবল দুটি টি-টুয়েন্টি। এই সিরিজটা হাতে এলে সমালোচকদের মুখের লাগাম কিছুটা হলেও বন্ধ করা যাবে। তাড়নায় থাকবে সেটিও।