ভারতে তাজ মহল বিতর্ক, মন্দির না সমাধি!

সুমন দত্ত

তাজ মহল নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এই বিতর্ক বহু পুরানো।  অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিতর্কের জন্য দায়ী ভারতের পূর্বের শাসকরা। ভারতে সাম্প্রদায়িকতা জিইয়ে রাখতে এই কাজটি করা হয়েছে। তথাকথিত সেকুলার শাসকদের রহস্যময় আচরণের কারণে তাজ মহল নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। যা এখনো চলমান। আর এসব থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে রাজনৈতিক দলগুলো।

সম্প্রতি এই বিতর্ক ভারতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে উত্তর প্রদেশের সরকারি পর্যটন সূচি থেকে তাজ মহলকে বাদ দেয়ার কারণে। তাজমহলের পরিবর্তে সেখানে স্থান দেয়া হয়েছে গোরকপুর মন্দিরকে। কারণ গোরকপুর মন্দির থেকে দীক্ষা নিয়েছেন প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে মুসলিমদের একটি প্রভাব রয়েছে। তাজ মহলকে পর্যটন তালিকা থেকে বাদ দেয়ায় প্রদেশটির মুসলিম এমপিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সমাজবাদী পার্টির এমপি আজম খান বলেন, যে যুক্তিতে তাজ মহল বাদ দেয়া হয়েছে সেই যুক্তি অনুসারে মুঘলদের অন্য স্থাপনাগুলো কেন বাদ দেয়া হলো না। শুধু তাজ মহলের ওপরই কেন টার্গেট করা হলো? 

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন তাজ মহল নিয়ে আবার বিতর্ক কি? মুঘল সম্রাট শাহজাহানের তৈরি এই মহল নিয়ে কার কি সন্দেহ থাকতে পারে? কথা সত্য। তাজ মহল নিয়ে আমি নিজেও বিতর্ক শুনিনি। কারণ আমার বাপ দাদারা প্রয়াত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহেরু-ইন্দিরা গান্ধীকে খুব ভালোবাসতেন। আর ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি তাজ মহল নিয়ে  লেখা এক লেখকের বই তৎকালীন সময়ে নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। ইন্দিরার মতে ওই বই প্রকাশ হলে তাজ মহল নিয়ে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা শুরু হবে। হয়ত অনেকেই জানতে চাচ্ছেন সেই বইটির নাম কি, যেটি ইন্দিরা গান্ধী নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন।

বইটির নাম হচ্ছে ‘দ্যা তাজ মহল ইজ তেজো মহালয়া’  লেখক পি এন ওক, পুরো নাম পুরুষোত্তম নাগেশ ওক। শিক্ষাগত যোগ্যতা এম এ, এলএলবি। ১৯১৭ সালে জন্ম নেয়া এই লেখক বেঁচে ছিলেন ২০০৭ সাল পর্যন্ত। তার লেখা বইটির রচনার সময়কাল ছিল ১৯৭০-৮০ সাল। পি এন ওক পেশায় ছিলেন সাংবাদিক। ২৪ বছর বয়সে তিনি নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের গঠন করা আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি জাপানীদের সঙ্গে ব্রিটিশ বিরোধী যুদ্ধ করেন মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে। তিনি আজাদ হিন্দু রেডিও বক্তা ছিলেন। ভারতের তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা হিসেবে বহুদিন কাজ করেছেন।

তার লেখা বইতে তিনি দাবি করেন তাজ মহল শাহজাহানের তৈরি মহল নয়। এটি আদ্যতে হিন্দুদের ভগবান শিবের মন্দির। তার এই বক্তব্যের পিছনে যেসব যুক্তি দেয়া হয় তা অবশ্যই চিন্তার অবকাশ থাকে। যুক্তিগুলো ফেলনা নয়। মানুষ এতদিন তাজ মহল দেখেই বিদায় নিয়েছিল। এর সঠিক ইতিহাস জানার কারো আগ্রহ ছিল না।

 ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হওয়া উপমহাদেশে কেউ কারো ইতিহাসের স্বীকৃতি দিতে চায় না। বাংলাদেশে পাঠ্যপুস্তকে মুঘলদের যে ইতিহাস পড়ানো হয় ভারতে তা পড়ানো হয় না। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব বাংলাদেশে হিরো। কিন্তু ভারতে সে হিন্দু অত্যাচারী এক সম্রাট। অন্যকথায় খলনায়ক। সিরাজ-উদ-দৌল্লা গিরিশ ঘোষের কাছে হিরো। কিন্তু অন্য হিন্দু লেখকের কাছে তিনি নারী লোলুপ, ক্ষমতা লোভী।

ঠিক এভাবেই তাজ মহল নিয়ে দুরকম ইতিহাস আছে। ভারতে যারা ধর্ম নিরপেক্ষতার ঢোল পেটায়, তাদের কাছে এটি সম্রাট শাহজাহানের তৈরি। আর যারা হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি করে কিংবা হিন্দু আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোট বাগায়, তাদের কাছে তাজ মহল শিব মন্দির।

তারপরও সবাই সত্যটা জানতে চায়। আর সেই সত্য কি? তাজ মহল ১৬৫২ সালে তৈরি। বলা হয়, ২২ হাজার লোকের পরিশ্রমে এই মহল তৈরি। সম্রাট শাহজাহান, তার প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজের নামে এই মহল তৈরি করেন। মমতাজ ছিলেন শাহজাহানের তৃতীয় স্ত্রী।(অনেকে ইতিহাসকার দ্বিতীয় স্ত্রী বলেন।) সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মমতাজ মারা যান। তাকে স্মরণ করতে গিয়ে শাহজাহান এই মহল তৈরি করেন। এই ইতিহাস মমতাজের কবরের স্মৃতি ফলকে লেখা। যা আজ সবাই তোতা পাখির মত বলেন।

এখন প্রশ্ন সম্রাট শাহজাহানের একাধিক পত্নী ছিল। তিনি মমতাজকেই কেন এত ভালোবাসতেন? অন্য স্ত্রীরা কি তাকে ঘৃণা করত? তার তো উচিত ছিল প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য কিছু না কিছু তৈরি করা। কারণ ইসলামে আছে প্রত্যেক স্ত্রীকে সমানভাবে দেখতে হয়।

পি এন ওকের প্রথম দাবি, তাজ মহল যেই সময়ে নির্মিত হয় সেই সময়ের কোনো নথি পত্রে তাজ মহল নামের কোনো মহল নেই। তাছাড়া মুসলিম শাসকদের কোনো সমাধির নাম মহল রাখা হতো না। তাজ নামটাও মুসলিমদের কোনো প্রাসাদের নামের সঙ্গে নেই। আফগানিস্তান থেকে শুরু করে মধ্য প্রাচ্যে পর্যন্ত সব দেশে তাজ নামের কোনো স্থাপনা পাওয়া যায় না।

দিল্লির স্থানীয় মুসলিমরা বলেন ‘মমতাজ মহালের’ নাম থেকে মম বাদ দিয়ে তাজ মহল রাখা হয়। এটাও সঠিক নয়। কারণ কেউ নিজের স্ত্রীর বিকৃত নাম নিয়ে স্থাপনার নামকরণ করেন না। ইসলামে নাম বিকৃত করা পাপের কাজ। তাছাড়া মমতাজের পুরো নাম হচ্ছে ‘আরজুমান্দ বানু বেগম’ ওরফে ‘মমতাজ-উল-জামানি’ এই নাম শাহজাহানের লিখিত বাদশাহনামাতে সরকারিভাবে প্রকাশিত। দুটো নামের একটাতেও মমতাজকে ‘মমতাজ মহাল’ বলেনি। তাছাড়া যদি ধরেও নেই মম থেকে তাজ নেয়া হয়েছে, সেই হিসেবে মমতাজ বানানটা শেষ হয় ইংরেজি বর্ণমালা জেড দিয়ে। অন্যদিকে তাজ বানানের শেষে হয়েছে ইংরেজি জে দিয়ে। সুতরাং দুই তাজ বানানে পার্থক্য কেন? ওক সাহেবের যুক্তি ছিল এরকম।

 ওক সাহেবের মতে, তাজ মহল এসেছে সংস্কৃত শব্দ তেজ থেকে। আর মহল এসেছে  মহালয়া থেকে। তাজ মহলের আদি নাম ছিল তেজো মহালয়া। যার অপর নাম শিব মন্দির। তিনি বলেন, তাজ মহল আদিতে ছিল শিব মন্দির। যার নাম তেজো মহালয়া।

তিনি আরো বলেন, আগ্রার যেই অঞ্চলে এই তাজ মহল সেই অঞ্চলে জাটরা ছিল প্রতাপশালী। জাটদেরকে তেজো বলা হতো। মানে শিবের মত শক্তিশালী। যেই জমিতে তাজ মহল সেই জমিটি শাহজাহানের ছিল না। এটি ছিল রাজা জয় সিংয়ের। এটা তাজ মহলের বর্তমান ইতিহাসে আছে। কিন্তু সেখানে পরিষ্কার করে সুনির্দিষ্ট ভাবে লেখা নেই সম্রাট শাহজাহান জয় সিংয়ের কাছ থেকে জমি কিনেছিলেন না মন্দিরসহ জমি কিনেছিলেন।

মন্দিরের প্রসঙ্গটি আরও বহু কারণে উঠছে। কারণ তাজ মহলের মাথায় যেই গম্বুজটি রয়েছে তার শীর্ষ দেশে রয়েছে ত্রিশূল। যেটা হিন্দুদের ভগবান শিবের অস্ত্র। মুসলিমদের তৈরি গম্বুজে চাঁদ তারকা থাকে কিংবা শুধু চাঁদ। কিন্তু তাজ মহলের মাথায় চাঁদ তারকার বদলে রয়েছে ত্রিশূল এবং সেই ত্রিশূলের মধ্যভাগে রয়েছে ঘট,নারকেল আমপাতা। যে তিনটি জিনিস হিন্দুদের পূজায় লাগে। ওই নকশা গম্বুজের শীর্ষে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 

বলা হয়ে থাকে, তাজ মহলে নকশাবিদরা ইরানের। মুঘলরা ইরান থেকে এসব নকশা এনেছে। কিন্তু শিবের ত্রিশূল ঘট ইরানিরা জানবে কীভাবে?

তাজ মহল সমাধিস্থল। তবে এর মধ্যে শতাধিক কক্ষ রয়েছে। যেগুলো বহু বছর ধরে বন্ধ। এখন প্রশ্ন শাহজাহান এসব শতাধিক ঘর কেন বানালেন? এর প্রয়োজনীয়তা কি? এসব ঘর বন্ধ করে রাখারই বা কেন দরকার পড়ল? শাহজাহানের দাবিদারদের কেউ কিন্তু এই উত্তর দিতে পারছে না। আসলে তাজ মহল ছিল মন্দির। সেই মন্দিরের নকশা পরিবর্তন করে এই স্থাপনাটি বানানো হয়েছে। যে কারণে সেই ঘর গুলো রয়ে গেছে।  ১৯৭০ সালে ফ্রান্সের এক পর্যটক সেই সব ঘরের দরজা-জানালার কার্বন ডেটিং করেন। তাতে তিনি জানতে পারেন তাজ মহল সম্রাট শাহ জাহানের জন্মেরও ৩০০ বছর আগের। অর্থাৎ তাজ মহল যদি সম্রাট শাহজাহানের হতো। তবে কার্বন ডেটিং এ সেই সময়ের তথ্যটি উঠে আসত।

তাজ মহলের ভেতরে আছে গভীর কূপ। মমতাজের সমাধিস্থলে কূপ খননের দরকার পড়ল কেন? আসলে হিন্দু মন্দিরে কূপ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আদি তাজ মহলে কূপ ছিল। যে কারণে সেই কূপটি এখনো রয়ে গেছে।

তাজ মহলে প্রবেশ মুখে কিছু নকশা আছে যেখানে নাগ নাগিনির ছবি ও পদ্মফুলের ছবি পাওয়া যায়। সেই পদ্মফুল হিন্দুদের পূজায় ব্যবহার হয়। কোনো মুসলিম মসজিদে বা সমাধিতে নাগ নাগিনি ও পদ্মফুলের ছবি নেই।

তাজ মহলের দেয়ালে ‘ওম’ লেখা নকশা। মুসলিম সমাধিতে ওম লেখা থাকবে কেন? ওম লেখা থাকে মন্দিরে। তাজ মহলের গম্বুজের পাশাপাশি ছোট ছোট গম্বুজ কেন? মুসলিমদের স্থাপনায় একটি বড় গম্বুজই দেখা যায়। সেখানে ছোট ছোট গম্বুজ দেখা যায় না। কিন্তু হিন্দু মন্দিরগুলোতে বড় গম্বুজের সঙ্গে ছোট গম্বুজ থাকে।

তাজ মহল যে শাহজাহানের সময় কাল থেকেও পুরানো তার আরেকটি প্রমাণ হচ্ছে এই তাজ মহল নির্মাণের পরই শাহজাহান পুত্র আওরঙ্গজেব একে সংস্কার করেন। কারণ তার মায়ের এই স্মৃতি স্তম্বের গম্বুজ ফেটে পানি পড়ছিল সমাধিতে। আওরাঙ্গজেবর চিঠিতে সেই কথা উঠে এসেছে। ১৬৫২ সালের সেই চিঠিতে তাজ মহল পুরাণ হয়ে গেছে একে সংস্কার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওরঙ্গজেব। এই চিঠি আওরাঙ্গজেব তার পিতা শাহজাহানকে লিখেছিলেন। এখন প্রশ্ন তাজ মহল যদি ওই সময়ে তৈরি হয় তবে ওই সময়ে পুরান হয়ে গেল কীভাবে? আসলে প্রাচীন প্রতিষ্ঠানকে সংরক্ষণ করতে গেলে এর সংস্কারের দরকার পড়ে। আওরঙ্গজেব সেই কাজটি করেছেন। সুতরাং তাজ মহল যে পুরান স্থাপনা তা ওই চিঠি থেকে প্রমাণ হয়।

তাজ মহল ২২ বছর ধরে নির্মাণ করা হয়। এই ইতিহাসও খারিজ করে দিয়েছে ফরাসি পর্যটক তাভেরনিয়ার। মুসলিমদের এই এক মাম্বো জাম্বো ইতিহাস রচনা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মুঘলরা আগ্রায় ঘাটি গাড়ার আগে সেখানে পাঁচটি শিব মন্দিরের পূজা হতো। বর্তমানে চারটি শিব মন্দিরের পূজা হয়। পঞ্চম শিব মন্দিরটি মুঘলদের আসার পর গায়েব হয়ে যায়। এই গায়েব হওয়া শিব মন্দিরটি হচ্ছে তাজ মহল যার ইতিহাস মুঘলরা প্রেমের সমাধি নামে ঢেকে দিয়েছে। এমন যুক্তি ওক সাহেবের।

ইসলামে কবরের সামনে নাচ গান করা হারাম। কিন্তু তাজ মহলের পাশেই আছে আরেকটি ছোট মহল।  এই ছোট মহল কেন নির্মাণ করলেন শাহজাহান? কবরে মমতাজকে গান শোনানোর জন্য? নাউজুবিল্লা। আসলে হিন্দুদের মন্দিরে নাচ গান হয়। ভগবান শিব নাচের জনক। শিবের মন্দিরে নাচ গানের জন্য স্থাপনা থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। আর এ কারণেই তাজ মহলে পাশে আরেকটি ছোট মহল দেখা যায়।

এবার আসি তাজ মহলের চারদিকে চারটি মিনার প্রসঙ্গে। হিন্দুদের বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা যায় সেখানে চার কোনায় চারটি কলা গাছ দিয়ে একটি কুঞ্জ তৈরি করা হয়েছে। একে বিয়ের মণ্ডপ বলে। তাজ মহল যে মিনার বসানো হয়েছে সেটি তাজ মহলের চারটি কোনায় স্থাপন করা হয়েছে। মুসলিম মসজিদের চারপাশে এভাবে মিনার বসানো হয় না। হিন্দুদের মন্দিরগুলোতে চার কোনায় স্তম্ব বসানো হয়। সত্য নারায়ণ পূজায় চার কোনায় পিলার বসিয়ে পূজা করা হয়।     

এরকম বহু যুক্তি ও তর্ক আছে তাজ মহলকে ঘিরে। তবে সব কথার শেষ কথা আর্কেওলজি সার্বে অব ইন্ডিয়া এক ঘোষণা। তাদের মতে তাজ মহলে শিবের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাজ মহল শিব মন্দির নয় এমনটাই দাবি তাদের। তবে তাদের এই দাবি শুনছেন না  হিন্দুত্ববাদীরা। কারণ এর আগে বাবরি মসজিদ মামলায় আর্কেওলজি সার্বে  অব ইন্ডিয়া বলেছিল বাবরি মসজিদের নিচে রাম মন্দিরের অবশেষ পাওয়া গেছে। অনেক মুসলিমরা তা মানেননি। যে কারণে তাজ মহলের বিষয়ে হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটি অংশ ওই সংস্থার বক্তব্য শুনছেন না।

তাজ মহল শিব মন্দির এই নিয়ে আরো যুক্তি আছে। সেগুলো জানতে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করুন।