তাহিরপুরে জব্দকৃত ৬২টন চুনাপাথর গোপনে বিক্রি:এলাকায় তোলপাড়

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বীরেন্দ্রনগর সীমান্ত থেকে বিজিবি কর্তৃক জব্দকৃত ৭২মেঃটন চুনাপাথরের মধ্যে ৬২মেঃটন চুনাপাথর গোপনে বিক্রি করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর ব্যবসায়ী মহলসহ সীমান্ত এলাকাবাসীর মাঝে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে আজ ১৭.১০.১৭ ইং মঙ্গলবার ভোর ৪টায়। গোপনে বিক্রি করা ৬২টন চুনাপাথরের বর্তমান বাজার মূল্য ২হাজার ৫শত টাকা করে মোট ১লক্ষ ৫৫হাজার টাকা। কিন্তু বিক্রি করা হয়েছে ১লক্ষ ৩৬হাজার টাকায়।

এব্যাপারে বাগলী শুল্কস্টেশনের ব্যবসায়ীরা জানান,উপজেলার বাগলী শুল্কস্টেশন দিয়ে ৫ মাস যাবত কয়লা ও চুনাপাথর আমদানী বন্ধ থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকার চিহ্নিত চোরাচালানীরা বীরেন্দনগর ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যদের সহযোগীতা এই সীমান্তকে চোরাচালানের ওপেন রুঢ হিসেবে ব্যবহার করেছে। মাঝে মধ্যে বিজিবি উপর মহলের কর্মকর্তাদের চাপের মুখে পড়ে লোক দেখানো নামমাত্র মালামাল আটক করলেও চিহ্নিত চোরাচালানীদের গ্রেফতার করেনা।

সস্প্রতি বীরেন্দ্রনগর বিজিবি ক্যাম্পের লামাকাটা এলাকার চোরাই পয়েন্ট থেকে চুনাপাথর বোঝাই ৫টি ও সুন্দরবন এলাকা থেকে ১টি ইঞ্জিনের নৌকা বিজিবি আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ৫টি নৌকায় আটককৃত অবৈধ চুনাপাথরের পরিমান মোট ৭২টন। আর এই চুনাপাথর প্রকাশ্যে এলাকাবাসীর সামনে নিলামে বিক্রি করে সরকারী কোষাগারে নগদ টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও আজ ১৭.১০.১৭ইং মঙ্গলবার ভোর ৪টার সময় বীরেন্দ্রনগর বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার হাবিব ও হাবিলদার দুলাল মিলে গোপনে বীরেন্দ্রনগর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন রংগাছড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে চোরাচালানী আলী হোসেনের নিকট ৬২মেঃটন চুনাপাথর বিক্রি করে দেয়।

এরআগে গত ১৩.১০.১৭ইং শুক্রবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত বাগলী এলসি পয়েন্টের পশ্চিম দিকে অবস্থিত বাগলী নদী দিয়ে ভারত থেকে ২৪হাজার বস্তার (৮০০ মেঃটন) পাচাঁর করে। এসময় কোম্পানী কমান্ডার হাবিব ও হাবিলদার দুলাল অভিযান চালিয়ে ২৪হাজার বস্তার (৮০০ মেঃটন) মধ্যে ২৪০০বস্তা (৮০মেঃটন) কয়লা আটক করে। এরপর আটককৃত ২৪০০বস্তা (৮০মেঃটন) কয়লার মধ্যে ১১০০বস্তা (সাড়ে ৩৬ মেঃটন) কয়লা চোরাচালানীদের গডফাদারদের অনুরোধে ঘটনাস্থলে ছেড়ে দেয়। এঘটনার দিনগত রাত ১১টা থেকে পরদিন গত ১৪.১০.১৭ইং শনিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত চোরাচালানী আলী হোসেন,মঞ্জুল মিয়া,লিটন মিয়া,নজরুল মিয়া গং আবারও ২২ হাজার ৭শত বস্তা (প্রায় ৭৫৭ মেঃটন) কয়লা পাচাঁর করে বাগলী এলসি পয়েন্টে অবস্থিত বুড়ার দোকানের পিছনে,নজরুল মিয়া,লিটন মিয়া,শাজাহান খন্দকার ও সুরুজ মিয়ার ডিপুতে নিয়ে মজুদ করলেও বিজিবি এব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এব্যাপারে জানতে বীরেন্দ্র নগর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার হাবিব এর সরকারী মোবাইল নাম্বারের বারবার কল করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক নাসির উদ্দিন বলেন,এব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।