বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে প্রতিটি ডিম ৩ টাকা ছিল

নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর খামারবাড়ীতে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের। আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল এখানে কম দামে ডিম বিক্রয় করা হবে। প্রতিটি ডিমের দাম নেয়া হবে মাত্র ৩ টাকা।

৩ টাকায় এ ডিম কিনতে আসা মানুষের সংখ্যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। অনেকে সকাল ৬টায় এসে লাইন দাঁড়ায়। বেলা ১১টায় এটি পরিণত হয় জনস্রোতে।

প্রতিজনকে ৩ টাকা করে সর্বোচ্চ ৯০টি করে ডিম দেয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়ে উঠেনি। পরে ৩৭টি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাও এক সময় সম্ভব হয়নি। সিদ্ধান্ত হয় ১২টি করে দেয়া হবে ডিম। এক সময় মানুষের সংখ্যা এতো বেড়ে যায়, বলা একটি করে ডিম দিলেও সবাইকে দেয়া যাবে না। কর্তৃপক্ষ মেলায় ২০ হাজার ডিম এনেছিলো কম দামে বিক্রির জন্য।

এতো মানুষ সামাল দিতে না পেরে বন্ধ করে দেয়া হয় ডিম বিক্রি। শুরু হয় হৈ হৈ রৈ রৈ কাণ্ড। ডিম না পেয়ে অনেকে স্লোগান দিতে থাকেন। ‘ ডিম চাই দিতে হবে’, ডিম নিয়ে প্রতারণা চলবে না, চলবে না। শুরু হয় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ।

এক সময় বিশাল জনস্রোত সামাল দিতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হালকা লাঠিচার্জও করতে হয়।

মেলায় আগতদের অভিযোগ ঘোষণা দিয়ে ডিম না দিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে তাদের সঙ্গে।

গতশুক্রবার বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ফার্মগেটে খামারবাড়ীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল এবং সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলা। মেলায় একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৯০টি ডিম কিনতে পারবেন। এদেশের খাবার উপযোগী যেসব ডিম উৎপাদিত হয় তার সবই মেলায় পাওয়া যাবে। মেলায় ডিম দিয়ে নানা স্বাদের খাবার তৈরি করে বিক্রিও করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিম কীভাবে উৎপাদন হয়, সেগুলোও আগত দর্শকদের দেখানো হবে।

মেলায় পোল্ট্রি ফার্ম, ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ডিম দিয়ে নানা ধরনের খাবার প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো অংশ নেয়।