আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

ঢাকা, ২৭ আশ্বিন (১২ অক্টোবর ) : রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ১৩ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৭’ উপলক্ষে নি¤েœাক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করে দুর্যোগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০১৭’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘দুর্যোগ সহনীয় আবাস গড়ি, নিরাপদে বাস করি’ ‘ঐড়সব ঝধভব ঐড়সব’ যা খুবই সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার কাজে স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) কে নতুন আঙ্গিকে প্রতিষ্ঠা করেন, যা সদ্য স্বাধীন দেশের দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে একটি অনন্য মাইলফলক ছিল। এবছরের প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুর্যোগ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সমন্বয় করে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলে যে কোনো দুর্যোগে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দুর্যোগের প্রকোপ এবং মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দুর্যোগঝুঁকি মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দুর্যোগঝুঁকি তথা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় অবদান রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যা দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প জীবনহানীসহ ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। তাই ভূমিকম্প মোকাবেলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় নিয়মিত প্রচারণাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্প মহড়া আয়োজন খুবই জরুরি বলে আমি মনে করি। সরকার এ লক্ষ্যে বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপ‚র্ণ ভবন চিহ্নিতকরণসহ বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে অত্যাধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামাদি ক্রয় করেছে। ভূমিকম্প মোকাবেলায় নগর স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমি আশা করি সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও স্থানীয় জনসাধারণকে সাথে নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে দুর্যোগ সহনশীলতা অর্জনে দ্রæত ও কার্যকর কৌশল গ্রহণে সক্ষম হবে।

‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০১৭’ উদ্যাপনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আমি ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস’ এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”