লক্ষীপুরে ওএমএসে সাড়া মিলছে না ক্রেতাদের

জামাল উদ্দিন বাবলু, লক্ষীপুর: লক্ষীপুরে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কর্মসূচীর আওতায় পণ্য বিক্রি শুরু হলেও সাড়া মিলছে না ক্রেতাদের। আগে জেলায় প্রতিদিন একজন ডিলার হাজার কেজি সিদ্ধ চাল বিক্রি করলেও এখন তাঁরা ১ বস্তা (৫০কেজি) চাল বিক্রি করতে পারছেন না। ওএমএসের আওতায় আতপ চাল সরবরাহ করায় ও দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য বেস্তে যেতে বসেছে।

সরকার হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজিদরে সিদ্ধ চাল আর ওএমএসের আওতায় ৩০ টাকা কেজিদরে আতপ চাল বিক্রি না করে ওএমএসের আওতায় ৩০ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল আর হতদরিদ্রদের কাছে কেজিপ্রতি ১০ টাকায় আতপ চাল বিক্রির দাবী জানান সংশ্লিষ্টরা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওএমএস চালুর সরকারী সিদ্ধান্তের পরপরই জেলার সরকারী গুদামগুলোতে চাল সরবরাহ শুরু হয়। ডিলারদের সঙ্গে চুক্তি শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর তারা গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করেন এবং ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি শুরু করেন। জেলায় মোট ২২ জন ডিলারকে খোলা বাজারে চাল বিক্রির অনুৃমতি দেয়া হয়।

এর মদ্যে সদর উপজেলায় ১২ জন, রায়পুর উপজেলায় ১ জন, রামগঞ্জ উপজেলায় ৩ জন, রামগতি উপজেলায় ৩ জন ও কমলনগর উপজেলায় ৩জন ডিলার অনুমতি পান। ডিলাররা ৪০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করলেও ১৬ টি ওএমএস কেন্দ্রে সপ্তাহে একদিন বন্ধ রেখে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত চাল বিক্রি করেন। এ কর্মূসূচীর আওতায় চাল বিক্রি চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। খাদ্য গুদামে আতপ চাল বর্তমানে ১৫০০টন মজুদ আছে। এছাড়া বাজার মনিটরিং করতে ডিলারদের প্রতি কেন্দ্রে ২জন করে কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন।

জানা যায়, জেলায় ওএমএসের কেন্দ্র রয়েছে ১৬ টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬ টি, রায়পুর উপজেলায় ১টি, রামগঞ্জ উপজেলায় ৩টি, রামগতি উপজেলায় ৩টি ও কমলনগর উপজেলায় ৩টি কেন্দ্র রয়েছে। ডিলাররা সদর উপজেলায় ২৪ মেট্রিকটন, রায়পুর উপজেলায় ১ মেট্রিকটন, রামগঞ্জ উপজেলায় ৬ মেট্রিকটন, রামগতি উপজেলায় ৪ মেট্রিকটন ও কমলনগর উপজেলায় ৫ মেট্রিকটন চাল উত্তোলন করলেও সদর উপজেলায় ১৪ মেট্রিকটন, রায়পুর উপজেলায় ৪০০ কেজি, রামগঞ্জ উপজেলায় ৩.২০০ মেট্রিকটন, রামগতি উপজেলায় ৫০০ কেজি ও কমলনগর উপজেলায় ১মেট্রিকটন চাল বিক্রি করেন। ক্রেতার অভাবে অবিক্রিত রয়ে গেছে ২০.৯০০ মেট্রিকটন চাল।

শহরের ওএমএসের কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা না থাকায় বিক্রেতারা অনেকটা হতাশ হয়ে বসে আছেন। ক্রেতারা দোকানে এসে আতপ চাল দেখে না কিনে বাড়ী ফিরে যেতেও দেখা যায়।

শহরের রিক্সা চালক হাশেম মিয়া জানান, সরকার খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজিতে চাল দিতেছে শুনে আসছি। এখন দেখি আতপ চাল। আতপ চাল আমার ছেলে-মেয়েরা খেতে চায় না। তাই দেড়শ টাকা দিয়ে ৫ কেজি আতপ চাল না কিনে কষ্ট হলেও তিন কেজি সিদ্ধ চাল (মোটা সিদ্ধ) কিনবেন বলে জানান তিনি।

শহরের ওএমএসের ডিলার মোঃ হেলাল জানান, চলতি মৌসুমে ২মেট্রিকটন আতপ চাল এনে তিনি বিক্রি করেছেন মাত্র ৫৫ কেজি। পাশাপাশি ২৫ টাকা কেজিদরে আটা বিক্রি না করলে কর্মচারীর বেতন দিতেও কষ্ট হতো বলে জানান তিনি।