লক্ষীপুরে অভ্যন্তরীণ কাঁচা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি

জামাল উদ্দিন বাবলু, লক্ষীপুর: উপকূলীয় জেলা লক্ষীপুর। মেঘনা নদী ভাঙন কবলিত উপজেলা কমলনগর। এখানকার মেঘনাপাড়ে বেড়ি বাঁধ না থাকায় এ উপকূল অরক্ষিত। যে কারণে বর্ষা মৌসুমে তীব্র জোয়ারে বিস্তৃর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে যায়। চলতি বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জোয়ারে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রায় ৮শ’ তালিকাভুক্ত সড়কের ১ হাজার ২৩৫ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ কাঁচা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে;

তবে বেশ কিছু সড়কের বেহাল দশা। উপজেলার পাটারিরহাট, চর ফলকন, সাহেবেরহাট, চর কালকিনি, চর মার্টিন ও চর লরেন্সসহ প্রায় সব কয়েকটি মেঘনা উপকূলীয় ইউনিয়ন। বেড়ি বাঁধ না থাকায় বর্ষা মৌসুমের প্রায় প্রতিদিন এই জনপদের বিস্তৃর্ণ এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসময় উপকূলীয় বেশিরভাগ রাস্তাঘাট পানির নিচে ডুবে যায়। এতে অভ্যন্তরীণ কাঁচা সড়কগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে, জোয়ার ছাড়াও অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার চর কাদিরা, তোরাবগঞ্জ ও হাজিরহাট ইউনিয়নের সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরেজমিন কয়েকটি সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, জোয়ার ও অতিবৃষ্টির কারণে রাস্তার দুপাশের মাটি সরে গেছে। রাস্তায় ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভেঙে গেছে। এখন সামান্য বৃষ্টিতে পানি-কাঁদা জমে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়রা দুর্ভোগে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, এবার অতিবৃষ্টি হয়েছে। বর্ষায় মেঘনা নদীতে জোয়ারের চাপও বেশি ছিলো। বেড়ি বাঁধ না থাকায় প্রায় প্রতিদিন জোয়ারের পানি রাস্তাঘাট ও ডুবে যেতো। বাড়ির ওঠান মাড়িয়ে বসতঘরেও পানি উঠেছে। এতে করে বাড়িঘর-রাস্তাঘাট ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ও তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফয়সল আহমেদ রতন বলেন, বিগত সময়ে তাদের ইউনিয়নের অভ্যান্তরীণ সড়কে যেসব কাজ হয়েছে চলতি বর্ষা মৌসুমের অতিবৃষ্টিতে ওইসব রাস্তায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার প্রয়োজন।

কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাটারিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজু বলেন, তার ইউনিয়নের পাটারিরহাট সড়ক, ফিসঘাট সড়ক, খায়েরহাট সড়ক, লেচকি রাস্তা ও গাড়িঘাটা রাস্তাসহ প্রায় সব কয়েকটি সড়ক বৃষ্টি ও জোয়ারে ক্ষতি হয়। ওই সব সড়কের তালিকা করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানাবেন বলে তিনি জানান।

কমলনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রায় ৮শ’ তালিকাভুক্ত সড়কের প্রায় ১হাজার ২৩৫ কিলোমিটার রাস্তায় বিভিন্ন সময়ে অতি দরিদ্রদের কর্মসূচি, এলজিএসপি, টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও ডানিডার আওতায় নির্মাণ ও সংস্কার কাজ হয়েছে।

চলতি মৌসুমের অতিবৃষ্টি ও জোয়ারে বেশিরভাগ রাস্তার ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় ভোক্তভোগীরা তালিকা জমা দিচ্ছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. বোরহান উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা করা হচ্ছে। এ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। আশা করি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রæত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে।