চাদপুরে হাজীগঞ্জের গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে

মোস্তফা সুজন, চাঁদপুর: সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিতকরণে দেশে প্রথমবারের মতো গৃহহীনদেরকে গৃহ দেয়া হয়েছে। উপজেলার ১২ ইউনিয়নের কয়েকশ’ গৃহহীনদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে ১শ’ ২০ জনকে এ তালিকায় স্থান দেয়া হয়। এই ১শ’ ২০ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে ৫৩ জনকে পুর্ণাঙ্গভাবে তৈরি করা ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি ঘরগুলোর কাজ সমাপ্তির পথে রয়েছে। চলিত মাসের শেষে দিকে তালিকাভূক্ত বাকি গৃহহীনদেরকে গৃহ বুঝিয়ে দেয়া হবে। কর্মপরিকল্পনার নির্দিষ্ট সময় আসছে মাসে নির্ধারন করা হলেও চলিত মাসের শেষে দিকে বাকি ৬৭টি ঘর স্ব-স্ব গৃহহীনকে বুঝিয়ে দেয়া হবে এবং এ জাতীয় উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে আরো উন্নয়ন করা সম্ভব বলে চাঁদপুর কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের প্রধানমন্ত্রী এক সভায় বলেন, এদেশে কোন লোক গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেক গৃহহীনকে গৃহ দেয়া হবে। সেই কথার আলোকে কোন ধরনের গেজেট প্রকাশের পূর্বেই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে নতুন কিছু করার চিন্তা আসে। সেই আলোকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুর সবুর মন্ডল হাজীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে গৃহহীনদেরকে গৃহ দেয়ার বিষয়ে কাজ করতে হবে বলে নির্দেশনা প্রদান করেন।

চলিত বছরের শুরুর দিকে জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল হাজীগঞ্জের একটি অনুষ্ঠানে এসে হাজীগঞ্জে গৃহহীনদেরকে গৃহদানের বিষয়ে তালিকা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। এরপরেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার উপজেলার সকল ইউনিয়নের তহসিলদারদেরকে দিয়ে প্রকৃত গৃহহীনদেরকে তালিকা চেয়ে পাঠান। আর এই তালিকার বিষয়ে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক স্থানীয় চেয়ারম্যান নিজেরা তালিকা করবেন বলে দাবি তোলেন। এর পরেই উভয় তালিকাকে সমন্বয় করে প্রকৃত গৃহহীনদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয় আর এরপরেই গৃহহীনদের মাঝে ঘর তৈরি করা ও বিতরণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘোষণার পরেই গৃহহীনদেরকে গৃহদানে বাস্তবে রুপ নেয়া শুরু করে। যা সারাদেশের মধ্যে হাজীগঞ্জেই সম্ভব হয় আর বাস্তবতায় দেখা যায়।

গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণে উপজেলা প্রশাসন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন এর মধ্যে কাজ শুরু হয় ১৬ জুন, এই কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘরগুলো তৈরি করার ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। স্থানভেদে কোনো কোনো পরিবারকে ৩ রুম, কোন পরিবারকে ২ রুম আবার কোন পরিবারকে ১ রুমের ব্যবস্থাপনায় ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়। তবে এই ব্যবস্থপনার হেরফের হয় ঐ সকল গৃহহীনদের সম্পত্তির উপর ভিত্তি করে। প্রথম ধাপের ঘরগুলোতে চাল ও বেড়া রঙ্গিন টিন দিয়ে তৈরি করা হয়। চালে রঙ্গিন টিন ব্যবহার করলে ঘরের ভিতরে গরম বেশি অনুভূত হয়। স্থানীয় এমপির এমন পরামর্শে পরের নির্মাণাধীন ঘরগুলোর চাল সাধারণ টিনে আর বেড়াগুলো রঙ্গিন টিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় এমপি মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, উপজেলা পরিষদ, উপজেলার সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আহসান হাবীব অরুণ ও হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, উপজেলায় প্রশাসনিক সকল দপ্তরের সহায়তায় গৃহহীনদেরকে গৃহ নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়। আর এই সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আসা অর্থেই ১শ’ ২০টি ঘরের মধ্যে প্রথম অংশে ৫৩টি ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয় বিভিন্ন ইউনিয়নের গৃহহীনদের মাঝে। বাকি ৬৭টি ঘরের মধ্যে ৩০টি ঘরের কাজ শেষ হয়ে গেছে অনেকে বুঝে নেয়ার আগেই বসবাস শুরু করেছেন বাকিগুলোর কাজ দ্রæত গতিতে চলমান রয়েছে। বুঝিয়ে দেয়া ৫৩টি ঘরের মধ্যে মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি নিজের থেকে দেয়া বরাদ্ধের ৩টি ঘরের সাথে স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সূত্রে আরো জানা যায়, এক কাজ শরু করতে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১শ’ ২০ জনকে গৃহ দেবার ক্ষেত্রে চুড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হয়। এ জন্য খাস জমির পরিমান রয়েছে ১.২০ একর, ৩১ আগস্টের মধ্যে জমি বেদখল মুক্ত করাসহ বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয় যার স্বারক নং ২০১৭/৩৪১।
এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার জানান, এই প্রকল্পের বিষয়ে শুরু দিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বলে । শুরুতে বিষয়টি নিয়ে অনেকের মাঝে বিশ^াস যোগ্যাতার প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। প্রথমধাপের ঘর বুঝিয়ে দেবার সময় একটি আরো একটি নতুন সমস্যার তৈরি হয়ে কাজ প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম হয়। একটা পর্যায়ে এসে টাকার অভাবে ঘর নির্মাণ বন্ধ হবার উপক্রম হয়। পরে জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল স্যার ৭০টা ঘরের টিন আর ঘর নির্মাণের টাকার ব্যবস্থা করে দেন।

গৃহহীনদেরকে গৃহ নির্মাণে আপনার ভূমিকা অপরিহার্য এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, সকলের সহযোগিতার কারণে এই কাজ আলোর মুখ দেখেছে। মূলত এভাবে সকলের অংশগ্রহণে আরো বড় বড় কাজ করার ইচ্ছা আছে ও কাজ করা সম্ভব। আমাদের কাজ করার অনেক সোর্স রয়েছে বা সোর্স থাকে শুধু দরকার স্থানীয়দের আর আমাদের আন্তরিকতা।

মোস্তফা সুজন, চাঁদপুর
মোবাইল : ০১৭৪৪২৩৩৪১২