ঢাবির শিক্ষকের ক্যান্টিনে ফাউ খাওয়ার অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক: চার বছর ধরে হলের ক্যান্টিনে খাবার খেয়ে টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ ওঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক টিউটর সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধে। ক্যান্টিন ম্যানেজার ও কর্মচারী সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। এছাড়া সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগও আনা হয়েছে।

বাকি হিসাবের খাতায় দেখা যায়, ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত মারজানের দেনার পরিমাণ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা। এরপর দ্বিতীয় খাতাটিতে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের ৫ থেকে অক্টোবরের ৯ তারিখ পর্যন্ত বাকি দুই হাজার ১৯০ টাকা। রাতের খাবার বাবদ কোনো দিন ২৮০, আবার কোনো দিন ২৫০ টাকা, আবার সকালের নাস্তা বাবদ ৫০, ৭৫, ১২০ এই রকম অঙ্ক মিলিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব দাড়ায় ৮ হাজার ৪৯২ টাকায়। সে হিসাবে শুধুমাত্র দুটি হিসাবের খাতায় ৩৫ হাজারের মতো উঠানো আছে।

ল ক্যান্টিন সূত্রে জানা যায়, বাকি টাকা পরিশোধের তাগাদা দিয়েও কাজ না হওয়ায় এক পর্যায়ে মারজানের বাকির হিসাবে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ লেখা বন্ধ করে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে মারজান ইত্তেফাককে বলেন, আমি রাজনৈতিকভাবে প্রতিহিংসার শিকার। এতদিন আমার নামে কোনো অভিযোগ আসছে না। এখন কেন আসছে? ক্যান্টিনের টাকা পরিশোধ করেছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়া বলেন, এমন কোনো বিষয় আমার জানা নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, আমি এটা শুনেছি। এটা খুব গর্হিত কাজ হয়েছে। অভিযোগ সত্য হলে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দার্শনিক মিশেল ফুকোর লেখা চুরির অভিযোগ আসে মারজানের বিরুদ্ধে। শিকাগো জার্নালে প্রকাশিত ফুকোর ওই লেখা থেকে প্রায় ৬২ শতাংশ কপি করে যৌথভাবে একটি প্রবন্ধ মারজান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান ঢাকা জার্নালে প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।