কৃষি অফিসের উদ্ভবনে কৃষিতে ব্যাপক সাফল্য

আজিজুর রহমান,দাকোপ(খুলনা)থেকেঃ মাটি ও মানুষের সম্প্রীতিক লড়ায়ে উদ্ভবন হচ্ছে কৃষি কাজ। সাফল্য হচ্ছে কৃষক, ফিরে আসছে ফসল। কৃষি তথ্য, কৃষি সমস্যার সমাধান, কৃষকের স্কুল, উঠান বৈঠাক, কৃষক মাঠ দিবস, কৃষক সমাবেশ কৃষি বায়োস্কোপ প্রদশর্ণ প্রভৃতি সম্প্রসারণ মূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকের দোড় গোড়ায় পৌছাছে দাকোপ উপজেলা কৃষি অফিস। ৩টি পোল্ডারের সম্মন্বয়ে গঠিত দাকোপ উপজেলা।

সদর চালনাতে অবস্থিত উপজেলা কৃষি অফিস। উপজেলা কৃষি অফিসের সাথে আইলা বিধ্বস্ত দ্বীপেয় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সু-স্পর্কের মাধ্যমে আরোও গতিশীল হচ্ছে কৃষি সেবা। নিরাপদ উপায়ে ফসল উৎপাদন, শ্রমিক সংকট নিরসনে কৃষিতে যান্ত্রিকরণ, বেকারত্ব দুরকরণ ও ভবিষৎ প্রজন্মকে মেধাবী জাতি হিসাবে তৈরী করতে সর্বস্তরে পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিতে নিরাপদ সবজি ও ফসল উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে কৃষি অফিস। ফলশ্রুতি ২০১৬-১৭ চলতি বছরে উপজেলাটিতে ফসলের আবাদ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নৈপথ্যে রয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন।

আইলা বিধ্বস্ত দ্বীপে লবণাক্ত অঞ্চলে নানা গবেষণার কৃষিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন। তিনি স্বীকৃতি স্বরূপ জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডিজিটাল মেলা ২০১৭তে নিরাপদ উপয়ে সবজি ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সেরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসাবে প্রশাংসিত হয়েছেন। শুধু তাই নয় আইলা বিধ্বস্ত দ্বীপে অবস্থিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সেবা দিয়েছেন। কৃষকরাও এমন কৃষি অফিসার পেয়ে ফসলের মাঠে ফসল ফলাতে আগ্রহী হয়েছে।

কৃষি অফিসার মোঃ মোছাদ্দেক হোসেনের প্রচেষ্টায় ও কৃষকদের অকাল পরিশ্রমে দ্বি-গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে শস্য ও ফসল। ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ কওে যাচ্ছেন দাকোপ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এছাড়া বর্তমান সরকারের কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মাঝে বিণামূল্যে সেক্স ফেরোমণ ফাঁদ বিতরণ, আলোক ফাঁদ স্থাপনসহ বিভিন্ন সহজ উপায়ের নির্দেশ দিচ্ছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। লবণ সহিষ্ণু মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবুজ সার হিসাবে ধৈঞ্চায় চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেছে।

কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায়, উপজেলার মোট আবাদ জমির পরিমাণ ১৯,৮৩০হেক্টর। ৩৫হেক্টর জমিতে ধৈঞ্চায় চাষ করে সবুজ সার উৎপাদন করা হয়। ফলে জমির মাটি উর্বর থাকায় কৃষকরা ফসল ফলাতে উৎসাহি হয়। উপজেলাটি ৩টি পোল্ডারে বিভক্ত থাকায় ৩১নং পোল্ডারে দুইটি, ৩২নং পোল্ডারে একটি ও ৩৩নং পোল্ডারে তিনটি ফসলের চাষ করা হয়। রোপা আমন, ভূট্্রা, রোপা আউশ, তরমুজ, লবণ সহিষ্ণু পাঠ।এরমধ্যে এক ফসল রোপা আমন চাষ করা হয় ৪,৮৮৪ হেক্টর, তিন ফসল রোপা আমন, তরমুজ, রোপা আউশ ও পাঠ ৩৭৫হেক্টর এবং দুই ফসল রোপা আমন,ভূট্্রা চাষ হয় কৃষি আবাদ জমিতে।

উল্লেখ্য যে, পাঠ গবেষণা ইনেস্টিটিউট ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৫হেক্টর জমিতে লবণ সহিষ্ণু পাঠ চাষ করেণ। এছাড়া ১৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষসহ ১০০০টি মিনিপন্ডে সবজি চাষ করা হয়েছে যা দাকোপ মডেল নামে পরিচিত।

সরেজমিনে ঘুরে ও কৃষক নিরাপদ রায়, অখিল হালদারসহ আরোও অনেকের সাথে কথা বলে জানাযায়, আমাদের অঞ্চালে কৃষি কাজ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা বলেন আমরা আইলার পরবর্তী সময় থেকে ৪ বছর যাবৎ কৃষি কাজে নিয়েজিৎ। কিন্তু বর্তমান সময়ে যেমন ফসল বৃদ্ধি পাচ্ছে যা আগের তুলনায় অনেক। যা বর্তমান কর্ম্যরত্ব কৃষি অফিসার আমাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে ফসল উৎপাদন সর্ম্পকে এবং কিভাবে ভালো ফল পাওয়া যায় সে সকল পরামর্শ দিয়ে উৎসাহিত করেণ।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, দাকোপকে আমি আমার নিজের এলাকা মনে করে কাজ করে যাই। এখানে যতদিন থাকবো সকল সামাজিক, রাজনৈতিক ও কৃষকের সাথে মাঠে ময়দানে নিজের মানুষের মত কাজ করে যাবো।