একযোগে কাজ করলে দুপক্ষেরই সুবিধা- অরুণ জেটলি

নিউজ ডেস্ক:  বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে এবং ভারত ধাবিত হচ্ছে উন্নত দেশের দিকে, এমনটিই মন্তব্য করেছেন প্রতিবেশী দেশটির অর্থ ও করপোরেটবিষয়ক মন্ত্রী অরুণ জেটলি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এখন ভারত ও বাংলাদেশ একযোগে কাজ করলেই দুপক্ষের সুবিধা হবে। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এফবিসিসিআই নেতাদের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় জেটলি এ কথা বলেন। তার নেতৃত্বেই সফররত ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।

অরুণ জেটলি এও বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী। তাই ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক। বাংলাদেশ সরকারও ভারতের জন্য দুটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। তবে দুই দেশের মধ্যে কিছু ব্যবসায়িক ও অশুল্ক বাধা রয়েছে, যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

দুপক্ষের সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, শিল্পায়নের জন্য বাংলাদেশে পানি ব্যবস্থাপনা ভালো করে উন্নয়ন সম্ভব। এ ছাড়া ভারতে বিদ্যুৎ খাত অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। তাই বাংলাদেশ আমাদের বিদ্যুৎসম্পদ ব্যবহার করতে পারে। পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নের প্রকল্প গ্রহণ করে এ দেশেই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমানে আমাদের শিল্পায়নব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তাই দুপক্ষের (বাংলাদেশ-ভারত) সুবিধার জন্য কোটা ফ্রি বাণিজ্যের পাশাপাশি অন্যান্য শুল্কায়নব্যবস্হার পর্যালোচনা জরুরি। তিনি পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক বাতিলের দাবি করেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ভারত থেকে এ দেশে ১৩ শতাংশ আমদানি বেড়েছে। তবে সামঞ্জস্য রাখতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। এ ছাড়া বিভিন্ন সীমান্ত পোর্টের উন্নয়ন করতে হবে। যাতে দুপক্ষই অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা করে। পাশাপাশি ভারত এ দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারে।

রোহিঙ্গা ইস্যু টেনে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনের ফলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়াদের সাহায্য এবং তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতসহ অন্যান্য অঞ্চলের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ একটি জনবহুল উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের একার পক্ষে রোহিঙ্গা ইস্যু মোকাবিলা সম্ভব নয়। এটি আমাদের আঞ্চলিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। কেননা এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য চিন্তা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এফআইসিসিআই সভাপতি পঙ্কজ প্যাটিল বলেন, বাংলাদেশ-ভারত একযোগে কাজ করলে দুই দেশেরই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। এ জন্য আমাদের যোগাযোগ ব্যব¯াপনা আরও সহজ করতে হবে। তিনি আকাশযোগের ব্যবস্থা আরও ভালো করার তাগিদ দেন।

এদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভারতে ৬৭ কোটি ডলার রপ্তানির বিপরীতে ৬১৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। অর্থাৎ দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৫৪৯ কোটি ডলার।