লক্ষীপুরে টাকায় মিলে সনদ

জামাল উদ্দিন বাবলু, লক্ষীপুর: লক্ষীপুরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) বিদেশগামীদের প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ ছাড়াই টাকার বিনিময়ে সনদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রশিক্ষকদের বিরুদ্ধে। বিদেশ গিয়ে যেন কোন সমস্যার সম্মুখিন হতে না হয়; তাই সরকার বিদেশগামীদের জন্য বাধ্যতামূলক বিভিন্ন কাজে ৩দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ দেয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করে প্রশিক্ষকদের ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে সনদ নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেকেই বিদেশ গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে বলে জানা যায়।

জানা গেছে, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিদেশগামীদের তিনদিনের প্রাক-বহির্গমন পশিক্ষণ ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারীতে চালু হয়। এখানে বিদেশগামীদের কাঙ্খিত দেশের ভাষা, আইন-কানুন ও প্রাথমিক ধারণা দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদিআরব, কাতার, বাহরাইন, ওমান, ইউএই, কুয়েত, মালদ্বীপ, লেবানন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরগামীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৮’শ ৮৭ জন প্রশিক্ষণার্থীকে এ কেন্দ্রে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, এখানে প্রশিক্ষণের জন্য আসলে প্রশিক্ষকরা বাড়তি টাকা নিয়ে সনদ দিয়ে দিচ্ছেন। কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই অনেকেই টাকার বিনিময়ে সনদ নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিতে হয়। বিনা প্রশিক্ষণে একটি সনদের জন্য ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয় প্রশিক্ষকদের। অথচ ভিসা ও পাসপোর্টের ছায়াকপি জমা দিয়ে সরকারিভাবে ২০০ টাকায় তিনদিন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার ব্যবস্থা রয়েছে। যার বিনিময়ে কোন বাড়তি টাকা দিতে হয় না।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র শিক্ষক ঈমান উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখানে সবরকম নিয়ম মেনেই প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে সনদ দেওয়া হয়। অনেকে এসে টাকার বিনিময়ে সনদ নেওয়ার চেষ্টা করে; তবে প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে টাকার বিনিময়ে সনদ দেওয়া হয় না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লক্ষীপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মির্জা ফিরোজ হাসান বলেন, কোন প্রশিক্ষক টাকার বিনিময়ে সনদ দিচ্ছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই। প্রশিক্ষণার্থীরা ৩ দিন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেই সনদ নিতে হয়। কাউকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয় না বলেও জানান তিনি।

 

জামাল উদ্দিন বাবলু
ল²ীপুর