দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে স্বস্তি বাংলাদেশের

নিউজ ডেস্ক: প্রথম ইনিংসে যেভাবে ব্যাটিং করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, তাতে পচেফস্ট্রমের সেনউইজ পার্ক স্টেডিয়ামের উইকেটকে মনে হয়েছিল এখানে বোলারদের জন্য কিছুই নেই। শুধুই ব্যাটিং উইকেট। কিন্তু বাংলাদেশ যখন ব্যাট করতে নেমেছিল, তখন মনে হলো, এটা তো বোলারদের উইকেট।

দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট করতে নামার পর প্রায় তেমনই মনে হচ্ছিল সবার। এবারও বুঝি আঠা লাগিয়ে উইকেটে টিকে থাকবেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। তবে সব ধারনা ভুল প্রমাণ করে বাংলাদেশের দুই পেসার মোস্তাফিজুর রহমান এবং শফিউল ইসলামের কাছে উইকেট দিয়ে ফিরে যান দুই প্রোটিয়া ওপেনার। ৩৮ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

তৃতীয় দিন শেষ বিকেলে ১৫.৫ ওভার ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা। আরও কয়েক ওভার খেলা হওয়ার কথা ছিল; তবে ব্যাড লাইটের (আলোক স্বল্পতা) কারণে দিনের খেলা শেষ করে দিতে বাধ্য হন আম্পায়াররা। তবেই এই সময়ের মধ্যে স্বাগতিকদের ২ উইকেটের পতন ছাট্টিখানি কথা নয়। শফিউল আর মোস্তাফিজ সেই দুটি ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারলেন বাংলাদেশকে। দক্ষিণ আফ্রিকার ৫৪ রানে শেষ হয় তৃতীয় দিন। বাংলাদেশের চেয়ে ২৩০ রান এগিয়ে তারা।

প্রথম ইনিংসে দারুণ ভুগিয়েছিলেন ডিন এলগার। তবে আক্ষেপেও পুড়েছেন তিনি। আউট হয়েছিলেন ১৯৯ রানে। ক্যারিয়ারে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দুরে থাকতে আউট হয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে সেই এলগারকে খুব বেশিক্ষণ টিকতে দেননি বাংলাদেশের পেসার শফিউল ইসলাম। মাত্র ১৮ রানেই দেখিয়ে দিয়েছেন সাজঘরের রাস্তা।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৯৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ৩২০ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে এই প্রথম ৩০০ প্লাস রান করলো বাংলাদেশ।

১৭৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছে প্রোটিয়ারা। তবে শুরুতেই বাংলাদেশের পেস তোপের মুখে উইকেট হারাতে হলো তাদের। অষ্টম ওভারের খেলা চলছিল তখন। দলীয় ৩০ রানে শফিউলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান ডিন এলগার। জোরালো আবেদনের মুখে এলবির আবেদন কবুল করে নেন আম্পায়ার ব্রুস অক্সেনফোর্ড। টিভি রিপ্লেতে বারবার দেখেই তবে আউটের ব্যাপারে নিশ্চিত হন তিনি।

এরপর হাশিম আমলার সঙ্গে জুটি বাধেন এইডেন মার্করাম। তবে তাদের জুটিও খুব বেশি স্থায়ী হলো না। মোস্তাফিজের বলে ফিরে যেতে বাধ্য হন মার্করাম। দলীয় ৩৮ রানে মোস্তাফিজের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন দক্ষিণ আফ্রিকার অভিষিক্ত এই ক্রিকেটার। তিনি করেন ১৫ রান। প্রথম ইনিংসে তিনি আউট হয়েছিলেন ৯৭ রানে।