আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

ঢাকা, ১৫ আশ্বিন (৩০ সেপ্টেম্বর ) : রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উপলক্ষে নি¤েœাক্ত বাণী প্রদান করেছেন : “বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।

আর্থ-সামাজিক ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নসহ চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতিতে বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলশ্রæতিতে পৃথিবীর সব দেশেই প্রবীণদের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। প্রবীণ জনগোষ্ঠী সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র। তাঁদের মেধা, মনন ও কর্মময় জীবনের পথ বেয়েই সভ্যতা ও উন্নয়ন এগিয়ে চলেছে। তাই প্রবীণ ব্যক্তিদের যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান প্রদানসহ তাঁদের স্বস্তিদায়ক জীবন, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবীণদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাই প্রবীণদের মৌলিক ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাঁরা যাতে সুখ-শান্তিতে এবং মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকতে পারেন সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া অতীব প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি করি। সরকার প্রবীণদের কল্যাণে বয়স্কভাতা, চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি এবং কল্যাণমূলক সংগঠন প্রবীণদের কল্যাণে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

বার্ধক্যের বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। স্বাভাবিক নিয়মেই একদিন প্রবীণত্বকে বরণ করতে হয়। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ভবিষ্যৎ অগ্রসরে : সমাজে প্রবীণদের দক্ষতা, অবদান এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন’ (ঝঃবঢ়ঢ়রহম রহঃড় ঃযব ঋঁঃঁৎব : ঞধঢ়ঢ়রহম ঃযব ঞধষবহঃং, ঈড়হঃৎরনঁঃরড়হং ধহফ চধৎঃরপরঢ়ধঃরড়হ ড়ভ ঙষফবৎ চবৎংড়হং রহ ঝড়পরবঃু) যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি। প্রবীণদের নানা সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সমাজ গঠনমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করা গেলে তাঁরা সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন এবং জাতীয় উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল প্রবীণের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করছি।

আমি আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০১৭ উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির সফলতা কামনা করি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”