প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপে নিরাপত্তা পরিষদের প্রশংসা অর্জনে বাংলাদেশ: নাসিম

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবতা দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ আজ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রশংসা অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে খাদ্য ও চিকিত্সার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলছেন। তাঁর কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণে বিশ্বের নেতৃবৃন্দ মিয়ানমার সরকারের বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরে হার্ট ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হার্ট ফাউন্ডেশন এই সভার আয়োজন করে। হূদরোগ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে তামাক ও মাদক সেবন থেকে দূরে থাকার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ, হূদরোগে আক্রান্ত ও জটিল করে তোলার পেছনেও তামাকজাত দ্রব্য সহায়ক ভূমিকা রাখে।

সম্মিলিতভাবে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এ দেশের মানুষকে তামাকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে পারবো। আর গড়ে তুলতে পারবো একটি সুস্থ, সরল ও উত্পাদনশীল দেশ। ধোঁয়াযুক্ত ও ধোঁয়াবিহীন সকল ধরনের তামাকই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তামাক ব্যবহারের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩০ বছরের বেশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫৭ হাজার লোক মৃত্যুবরণ করেন এবং পঙ্গুত্ববরণ করেন প্রায় ৪ লাখ লোক।

হূদরোগের ওপর বিশেষজ্ঞদের গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাব – এসব কিছু নিয়ন্ত্রণ করলে হূদরোগ এবং স্ট্রোকজনিত শতকরা ৮০ ভাগ মৃত্যু এড়ানো সম্ভব। অধিকাংশ ব্যক্তি যতক্ষণ জেগে থাকে তার অর্ধেকেরও বেশি সময় কর্মক্ষেত্রে কাজের মধ্যে থাকে। সেজন্য স্বাস্থ্যকর কর্ম পরিবেশ একান্ত দরকার। খেতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। ধূমপানকে ‘ না’ বলতে হবে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। লবণ কম করে গ্রহণ করতে হবে। হূদরোগ প্রতিরোধে সারাদেশে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বাড়াতে হবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। কর্মস্থল হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত। হূদরোগ চিকিত্সাসেবা বাড়াতে হবে।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক, ব্রিগেডিয়ার (অব) এম এ মালিকের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. আব্দুল আওয়াল রিজভি বক্তব্য রাখেন।