দ্বিতীয় দিন শেষে ৩৬৯ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক: পচেফস্ট্রুম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট হাতে রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকার রানের পাহাড়। জবাবে ব্যাটিংয়ে নামার আগেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। আইসিসির নিয়মের ফাঁদ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কৌশলের কারণে ওপেনিংয়ে নামতে পারেননি তামিম ইকবাল। শুরুতেই ইমরুল কায়েস বিদায় নেয়ায় চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই লিটন দাস বিদায় নিলে সেই চাপ আরো বেড়ে যায়। দুই উইেকেটের পতনের পরও নিয়মের মারপ্যাচে পড়ে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি তামিম। টাইগার শিবিরে দুর্যোগের ঘনঘটা। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দারুণ এক জুটি গড়েন মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহীম। এই দুজনের ব্যাটে আলোর দেখা পায় বাংলাদেশ। তবে শেষ বেলায় মুশফিকের বিদায় সেই আলো কিছুটা ম্রিয়মান হয়ে পড়ে।

পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান তোলে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দিন শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

মুমিনুল হক ২৮ ও তামিম ইকবাল ২২ রানে অপরাজিত আছেন। আউট হওয়া তিন ব্যাটম্যানের মধ্যে মুশফিক করেন ৪৪ রান। এছাড়া লিটন ২৫ ও ইমরুল ৭ রান করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ঘোষণার পর বাংলাদেশের হয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস। অনেকের মধ্যেই তখন প্রশ্ন জাগে— তামিম ইকবাল কেন ওপেনিংয়ে নেই। তবে কি ইনজুরিতে পড়েছেন টাইগার ওপেনার?

না, কোনো ইনজুরিতে পড়েননি তামিম। চা বিরতির আগে ৬৪ মিনিট ( ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট) ফিল্ডিংয়ে ছিলেন না বাংলাদেশের তারকা ওপেনার। চা বিরতির পর আর ব্যাটিংয়ে নাম নেমে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিয়ম অনুযায়ী, পচেফস্ট্রুম টেস্টে বাংলাদেশের ইনিংসের ৪৯ মিনিট পার না হতে তামিম ব্যাটিংয়ে নামার যোগ্য হবে না।

প্রথম ইনিংসের শুরুতেই ইমরুল কায়েসের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর ক্রিজে মুমিনুল হক সঙ্গী হন লিটনের। লিটন আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন মুশফিকুর রহীম। ৪৯ মিনিট শেষ না হওয়ায় দুই ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরলেও ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি তামিম। ২৬তম ওভারে মুশফিক আউট হলে তবেই ক্রিজে নামেন তামিম।

দক্ষিণ আফ্রিকার বড় সংগ্রহের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৬ রানের মাথায় এইডেন মার্করামকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। এরপর দলীয় ৩৬ রানের মাথায় স্লিপে হাশিম আমলার হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরে লিটন।

দ্রুত উইকেট হারিয়ে হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তোলেন মুশফিক-মুমিনুল। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন ৬৯ রানের জুটি গড়লে স্বস্তি ফেরে টাইগার শিবিরে।

শুক্রবার ১ উইকেটে ২৯৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। চা বিরতির আগ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান তোলা প্রোটিয়ারা পরে আর ব্যাটিংয়ে না নেমে ইনিংস ঘোষণা করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দারুণ ব্যাটিংয়ের দিনে ডাবল সেঞ্চুরি মিসের হতাশায় পুড়েন ডিন এলগার। ১৯৯ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ব্যাটসম্যান এবং সবমিলিয়ে ১২তম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টে ১৯৯ রানের ইনিংস খেলেন এলগার। এদের মধ্যে দুজন সঙ্গীর অভাবে ১৯৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এছাড়া আমলা ১৩৭, এইডেন মার্করাম ৯৭ রানের ইনিংস খেলেন। টেম্বা বাভুমা ৩১ এবং ফাফ ডু প্লেসিস ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এখন পর্যন্ত আগের চারটি টেস্টের সব ক’টিতে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। সব খেলাতেই আবার টসে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেনওয়েস পার্কে ১৫ বছর আগে খেলেছিল টাইগাররা। ওই টেস্টে জ্যাক ক্যালিসের অলরাউন্ড নৈপুণ্যের কারণে ইনিংস ও ১৬০ রানে হারতে হয়েছিল। ইতিহাসের সঙ্গে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের সাম্প্রতিক ফর্মও ভয় ধরিয়ে দিচ্ছে।